ছিটকে গেলেন এমবাপ্পে

কিলিয়ান এমবাপ্পে
স্বপ্নের শুরু। ১৪ বছর পর দিদিয়ের দেশমের জায়গায় ফ্রান্সের নতুন কোচ হয়ে প্রথম ম্যাচেই জয় এনে দিয়েছেন জিনেদিন জিদান। কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু গোলের পরই চোটে ছিটকে যান এমবাপ্পে। উয়েফা নেশনস লিগে ফ্রান্সের বাকি তিন ম্যাচে আর খেলতে পারবেন না তিনি।
এদিকে রবার্তো মানচিনি আবারও ফিরে এসেছেন ইতালির ডাগআউটে। ফেরার ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ইতালি। যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সে দুয়োও শুনেছেন মানচিনি।
জিদানের নতুন ৪-৩-৩ ছকে সেন্টার ফরোয়ার্ডের বদলে বাম উইংয়ে খেলেছেন এমবাপ্পে। শুরুতে এই পজিশনে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে তার। তবে সময় যত গড়িয়েছে, ফ্রান্সের আক্রমণের ধারও বেড়েছে তত। ৫৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ৬৭তম গোলটি করেন এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর মুহূর্তেই এমবাপ্পের মুখে ছিল যন্ত্রণার ছাপ। কিছুক্ষণ পর খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন তিনি।
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) নিশ্চিত করেছে, টেন্ডনের চোটের জন্য ফ্রান্সের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন না এমবাপ্পে। কোচ জিদান ফরাসি টেলিভিশন ‘টিএফ১’কে বললেন, ‘ওর চোটের অবস্থা ভালো নয়। আমরা ঝুঁকি নেব না। শট নেওয়ার সময় তার হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে গেছে।’
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, এমবাপ্পের চোট কতটা গুরুতর, সেটা নিশ্চিত হতে গতকাল এমবাপ্পের হাঁটুতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে রিয়াল মাদ্রিদ। এরপরই জানা যাবে, এল ক্লাসিকোয় তার খেলা হবে কি না।
জিদান অবশ্য ফরাসি জাতীয় দলের প্রথম কোচ হিসেবে ১৯৯৪ সালের পর প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন। সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিলেন আইমে জ্যাকে। ১৯৯৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নেপলসে ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে জিতিয়েছিলেন তিনি। এরপর পাঁচজন কোচ দায়িত্ব নিয়েছেন ফ্রান্সের। তাদের কেউই জিততে পারেননি প্রথম ম্যাচ।
এদিকে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হার দিয়ে শুরু হলো ইতালিতে কোচ রবার্তো মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়। মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর দুই গোলে নেশনস লিগে আজ্জুরিদের হারিয়ে শুরু করেছে বেলজিয়াম। রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোর ৭০ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে দর্শক ছিলেন ৪৭ হাজার ১৫৫ জন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারি থেকে ভেসে এলো দুয়োর সুর। সময়ের সঙ্গে তীব্র হয় সেই দুয়োধ্বনি।
এ নিয়ে মানচিনি বললেন, ‘হারলে তো কেউই আসলে খুশি হয় না। হারের পর দুয়োধ্বনি শুনতে হয়। এটাই স্বাভাবিক। প্রথমার্ধে বেলজিয়াম আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তারা হিমশিম খেয়েছে। আমরা সমতা ফেরাতে পারতাম, সুযোগ ছিল। দ্বিতীয় গোলের আগ পর্যন্ত আমাদেরই দাপট ছিল। কিন্তু নিজেদের ভুলের কারণেই গোল খেয়েছি। বেলজিয়াম দুর্দান্ত দল এবং তারা ভালো খেলেছে।’



