বিশ্বকাপে জড়িয়ে কেইনের ভাগ্য

৬০ বছর আর ২৫ বছরের অপেক্ষা। দুটিই একসঙ্গে ঘুচতে হবে। ইংল্যান্ডের একমাত্র ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে, সেই ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড জিতেছিল বিশ্বসেরার মুকুট। এরপর কতবার ‘ইট’স কামিং হোম’ গাইলেন ভক্তরা, কিন্তু তাদের চোখের সামনে দিয়ে বিশ্বকাপ অন্যের ঘরে চলে গেছে। সবশেষ কোনো ইংরেজ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০১ সালে, সেই মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংরেজ ফুটবলার ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের অর্জনটাও পাননি। হ্যারি কেইন আশা করছেন, এবার হয়তো হবে। একটা হলেই আরেকটা হবে। ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে কেইন পেতে পারেন ব্যালন ডি’অরও।
বায়ার্নের হয়ে এই মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন হ্যারি কেইন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এটিই কারও সর্বোচ্চ।
পুরো ব্যাপারটা অনেকটাই গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেলের মতো। যদিও কেইনের নিজের পারফরম্যান্স সবশেষ মৌসুমে নেহাত মন্দ নয়। সবশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে খেলা এই ইংরেজ ফরোয়ার্ড ৫১ ম্যাচ খেলে করেছেন মোট ৬১ গোল। ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু’ পুরস্কারটা কেইনই পেয়েছেন, তবে ব্যালন ডি’অরটা পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে কেইনের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের ওপর। পুরস্কার যদিও উয়েফাই দেয়, তবে তারা সহ-আয়োজক।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। কেইন তার চেয়ে এগিয়ে ১৯ গোলে।
মূল উদ্যোগটা ছিল ফ্রান্স ফুটবল ও লে’কিপ ম্যাগাজিনের। সেই লে’কিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই কেইন বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই ফেভারিটদের তালিকায় থাকব। এই মৌসুমে আমি যেসব ট্রফি জিতেছি এবং যতগুলো গোল করেছি, সেই বিচারে আমি ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ভালোভাবেই থাকব। তা ছাড়া ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে বুঝতেই পারছেন পুরস্কারটি কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের হাতেই ওঠার সম্ভাবনা বেশি; যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ফলও এখানে বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান ব্যালন ডি’অর ফেভারিটদের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানে মাইকেল অলিস আছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা খেলোয়াড়রা আছে এবং আমিও আছি।’
আমি নিশ্চিতভাবেই ফেভারিটদের তালিকায় থাকব। এই মৌসুমে আমি যেসব ট্রফি জিতেছি এবং যতগুলো গোল করেছি, সেই বিচারে আমি ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ভালোভাবেই থাকব। তা ছাড়া ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে বুঝতেই পারছেন পুরস্কারটি কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের হাতেই ওঠার সম্ভাবনা বেশি
কেইনের দল বায়ার্ন মিউনিখ অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি, পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কাছে সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলে হেরে যায় বাভারিয়ানরা।
চারজন ইংলিশ খেলোয়াড় জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। ফ্রান্সের পাঁচজন আর জার্মানি-ইতালির জিতেছেন চারজন করে।
তবে ঘরোয়া লিগ এবং কাপ দুই-ই জিতেছে বায়ার্ন, সঙ্গে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে কেইনের ব্যালন ডি’অর ঠেকায় কে! মনে আশার বেলুন ফুলিয়েই কেইন বলেছেন, ‘এই মৌসুমে আমি যেভাবে খেলেছি, যেভাবে একের পর এক ট্রফি জিতেছি এবং যতগুলো গোল করেছি— সব মিলিয়ে আমার মনে হয় এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমি থাকবই। এর ওপর যদি আমি বিশ্বকাপও জিতে নিতে পারি... তাহলে বুঝতেই পারছেন, ট্রফিটা কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের হাতে ওঠার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’
সর্বশেষ ৭টি বিশ্বকাপের বছরে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বিশ্বজয়ী চারজন। ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ডিসেম্বরে, তাই ব্যালন ডি’অর পান ২০২৩-এ।
নিজেকে সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর জয়ীদের একজন হিসেবেই দেখেন কেইন, ‘ব্যালন ডি’অরের সবশেষ কয়েক বছরের বিজয়ীর দিকে তাকালে এটি নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় যে, শেষ পর্যন্ত বড় ম্যাচ এবং বড় টুর্নামেন্টগুলোর পারফরম্যান্সই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। আর চলতি বছর আমার অর্জনের পাশে যখন আপনি সেই বিষয়গুলোকে যোগ করবেন, তখন আমার মনে হয় সেই তালিকায় আমি বেশ ভালোভাবেই থাকব।’
বুন্দেসলিগায় কেইনের গোল ৩১ ম্যাচে ৩৬টি। তাতে জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।
বিশ্বকাপ যদি ইংল্যান্ড জিতেই যায়, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই কেইনের দাবি জোরালো হবে। তবে তিন সিংহের দল বিশ্বকাপটা আদৌ জিততে পারবে কি না, সেটিই বরং বড় প্রশ্ন। তিন সিংহ মিলে হুংকার তো দেয় ঠিকই, কিন্তু শিকার তো গত ৬০ বছর ধরেই ফসকে যাচ্ছে!





