হিমেনেজ-ফস্টারের ওপর উদ্বোধনী ম্যাচের আলো

২০১০ সালে ঐতিহাসিক এক বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকো। ১৬ বছর পর আবারও এই দুই দলের লড়াই দিয়েই পর্দা উঠবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের। এবার স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নামবেন মেক্সিকানরা। উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলের কোন তারকা ঘুরিয়ে দেবেন ম্যাচের মোড়?
২০২০ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে মাথায় গুরুতর চোট তার ক্যারিয়ারটিই শেষ করে দিতে পারত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাউল হিমেনেজ এখন মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনিই দলের তুরুপের তাস।
অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই আসরের মতো এবারও প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার দেশটির প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা তাকিয়ে থাকবে লাইল ফস্টারের দিকেই।
আতলেতিকো মাদ্রিদে ক্যারিয়ার শুরু করা হিমেনেজের ক্যারিয়ারে বড় উত্থান আসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সে। এই ক্লাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সবার নজর কাড়েন তিনি। শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি, বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা; এই তিনেই নিজেকে সবার থেকে আলাদা করেছেন মেক্সিকোর হিমেনেজ।
এদিকে পর্তুগালের ক্লাব ভিটোরিয়া গুইমারায়েস ও বেলজিয়ামের ওয়াসল্যান্ড-বেভেরেনে খেলার সময় সবার নজরে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফস্টার। বর্তমানে খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বার্নলিতে। বার্নলির আক্রমণভাগে তিনি শুধু গোল করার জন্য নয়, বরং বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তোলার কাজেও ভূমিকা রাখছেন।
জাতীয় দল মেক্সিকোর হয়েও ৩৫ বছর বয়সী হিমেনেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুধুই একজন গোলস্কোরার নন, বরং একজন লড়াকু ফুটবলারও বটে। সাম্প্রতিক সময়ে কনকাকাফ নেশনস লিগ ও প্রীতি ম্যাচগুলোয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন হিমেনেজ। ‘মেন্টর-স্ট্রাইকার’ হিসেবে তাই এবারের বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন হিমেনেজ।
ফস্টারকে মানা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম প্রতিভাবান আধুনিক স্ট্রাইকারদের একজন। গতি, কৌশল এবং চাপের মধ্যে শান্তভাবে ফিনিশ করার ক্ষমতা; ফস্টারের আছে এসব গুণই। ‘বাফানা বাফানা’দের আক্রমণভাগে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ২৫ বছর বয়সী ফস্টার। জাতীয় দলের হয়ে ২৮ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোয় তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই আশার আলো দেখছে আফ্রিকা। বড় ম্যাচেও তিনি চাপের মুখে করেছেন গোল।
নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামা হিমেনেজ এই মুহূর্তে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪৬ গোল নিয়ে হিমেনেজ অপেক্ষায় আছেন সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। উদ্বোধনী ম্যাচে তার গোলই গড়ে দিতে পারে পার্থক্য।
উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামা ফস্টার, ধারণা করা হচ্ছে এমনটাই। তার গতি ও ডিফেন্ডারের পেছনে দৌড়ানোর ক্ষমতা মেক্সিকো রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে তিনি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারেন। মধ্যমাঠ থেকে ভালো অ্যাসিস্ট পেলে ফস্টারের গোলেই মেক্সিকোর বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
হিমেনেজ না ফস্টার, শেষ পর্যন্ত উদ্বোধনী ম্যাচে বাজিমাত করবেন কে?
১
বিশ্বকাপে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকো
২
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দ্বিতীয়বার লড়বে দুই দেশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম
৪
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের ম্যাচ সংখ্যা




