বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ
‘বাবা-মায়ের কোলে মাথা রেখে শুধু কেঁদেছি’

সংগৃহীত ছবি
১৯ বছর বয়সী এক তরুণের চোখে ছিল বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। চার বছর ধরে তিল তিল করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে জড়ানোর জন্য। কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়াটাও ছিল একরকম নিশ্চিত। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ইনজুরিতে ওলটপালট হয়ে গেল সবকিছু।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নতুন সেনসেশন এবং চেলসি তারকা এস্তেভাওয়ের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে ঊরুর পেশিতে পাওয়া গুরুতর চোট (গ্রেড-৪) কেড়ে নিয়েছে তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ইএসপিএন-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বোলা দা ভেজ’-এ হাজির হয়ে ক্যারিয়ারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প শোনাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই তরুণ।
চোট পাওয়ার পরদিন সকালের সেই ভয়াবহ মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে এস্তেভাও বলেছেন, ‘সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন শাওয়ার নিতে যাব, তখন ক্লাবের ডাক্তার আমাকে তিনবার কল করেছিলেন। আমি ব্যাক করার পর তিনি বললেন, ‘তোমার বাবা-মাকে একটু ক্লাবে নিয়ে এসো, আমরা তাদের সামনেই রিপোর্টের বিষয়ে কথা বলতে চাই।’ তখনই আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল। সাধারণত কোনো চোটে পড়লে ডাক্তার নিজেই বলে দেন। কিন্তু যখনই বাবা-মাকে ডাকতে বললেন, আমি বুঝে গিয়েছিলাম বড় কোনো বিপর্যয় ধেয়ে আসছে।’
ডাক্তারের কক্ষে গিয়ে রিপোর্টের বিস্তারিত শুনে স্তব্ধ হয়ে যান এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তার পেশি এতটাই বাজেভাবে ছিঁড়ে গিয়েছিল যে, ডাক্তার সেটাকে ‘গ্রেড-৪’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এস্তেভাও বলেছেন, ‘আমি তো জানতামও না যে চোটের আবার গ্রেড-৪ বলে কিছু হয়! যখন শুনলাম, তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।’
লাখ লাখ তরুণের মতো এস্তেভাওয়েরও স্বপ্ন ছিল উত্তর আমেরিকার অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতানো। পুরো বাছাইপর্ব ও প্রস্তুতিপর্বে দলে থেকেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়াটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত। তিনি বলেন, ‘খবরটা শোনার পর আমি আমার বাবা-মায়ের কোলে মাথা রেখে অঝোরে কেঁদেছি। কতটা কেঁদেছি তা বলে বোঝাতে পারব না। এই কঠিন সময়েই আসলে প্রিয় মানুষদের পাশে দরকার হয়। আমি আমার পরিবার ও বোনের কাছে কৃতজ্ঞ।’
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন চেলসির এই উইঙ্গার যখন চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়েছিলেন, তখনই গ্যালারিতে নেমে এসেছিল পিনপতন নীরবতা। তবে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও জীবন থেমে থাকে না। বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এস্তেভাও এখন অতীত ভুলে দ্রুত সুস্থ হয়ে চেনা আঙিনায় ফেরার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। বিশ্বকাপ মিস করলেও ব্রাজিলের এই ওয়ান্ডার কিড যে আগামী দিনে সেলেসাওদের বড় তারকা হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বের কারও কোনো সন্দেহ নেই।






