লুইস সুয়ারেজ
আমি অসহায় বোধ করছি

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র। এই এক ড্রয়েই বিশ্বকাপে উরুগুয়ের নকআউট পর্বের সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। মাঠের বাইরে বসে দলের এমন বিপর্যয় দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না উরুগুয়ের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ। যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা ও কনমেবলের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অবশেষে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন এল পিস্তোলেরো।
জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া সুয়ারেজ এবারই প্রথম দর্শক হিসেবে বিশ্বকাপ দেখছেন। দলের বিপর্যয়ে সাবেক এই বার্সা তারকা বলেন, ‘আমি খুবই অসহায় বোধ করছি, কারণ মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করার উপায় নেই। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের সেই অ্যাড্রেনালিন রাশ এখনো আমার ভেতর কাজ করে। এর বাইরে একজন বাবা হিসেবে নিজের সন্তানদের (উরুগুয়ের হার দেখে) কষ্ট পেতে দেখাও ভীষণ কঠিন। তবে এখন এটাই আমার ভূমিকা। আমার সতীর্থদের এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে একটা তেতো অনুভূতি হচ্ছে। তবে আমি ওদের বলেছি শক্ত থাকতে, ওরা ঠিকই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে।’ ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করা সুয়ারেজ ২০১০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারও বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার কড়া সমালোচনা করেছিলেন সুয়ারেজ। পরে দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বিয়েলসা তাকে প্রাথমিক স্কোয়াডেও রাখেননি। তবে এবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কোচের ওপর ক্ষোভ না ঝেড়ে বরং সুর নরম করলেন ইন্টার মায়ামির এই স্ট্রাইকার।
আগামী শুক্রবার গুয়াদালাহারায় স্পেনের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচ নিয়ে সুয়ারেজ বলেন, ‘আমার মনে হয় জাতীয় দল যখন এমন খাদের কিনারায় চলে আসে, তখন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রতিটি কোচেরই নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা থাকে। উরুগুয়ান হিসেবে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি দারুণ হবে বলে আশা করছি। আমরা এমন কঠিন পরিস্থিতি পছন্দ করি। আশা করি কোচ সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন যাতে শুক্রবার উরুগুয়ে একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারে।’
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে উরুগুয়ে যখন ধুঁকছিল, তখন সুয়ারেজের জন্য একটি মুহূর্ত ছিল ভীষণ আবেগের। দলের প্রথম গোলটি করার পর দুই আঙুলে চুমু খেয়ে সুয়ারেজের ট্রেডমার্ক স্টাইলে উদযাপন করেন মাক্সি আরাউহো। ভিআইপি বক্সে বসে সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সুয়ারেজ, ‘এটি আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে। আমি মোটেও এটা আশা করিনি। মাক্সির সাথে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। ম্যাচ শেষে আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ওর এই আচরণই প্রমাণ করে ও কত বড় মনের মানুষ এবং এই দলটার আমার প্রতি কতটা ভালোবাসা রয়েছে।’





