মরক্কোয় হবে ফরাসি রাফালের পরীক্ষা

কিলিয়ান এমবাপ্পে
১৩০১ দিন ধরে বয়ে চলা দুঃসহ যন্ত্রণা ভোলার সুযোগ মরক্কোর সামনে। ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাতারের আল বায়েত স্টেডিয়ামে থমকে গিয়েছিল তাদের রূপকথার যাত্রা। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে এক অসম লড়াইকে সমান্তরালে নামিয়ে এনেও শেষ পর্যন্ত হারের করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল।
ফাইনালে যেতে না পারার স্মৃতি ভুলতেই শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে ফরাসিদের বিপক্ষে খেলতে নামবে মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালে ফরাসি বিস্ফোরণ থামিয়ে টানা দ্বিতীয়বার মহামঞ্চের সেমিফাইনালে পা রাখাই তাদের লক্ষ্য। সেই সঙ্গে আগের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগটাও তারা নিতে চাইবে।
তবে এবার ফ্রান্স টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে আসা দুই দলের একটি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও ছুটছে একই গতিতে। ফ্রান্সের সামনে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখার হাতছানি। এর আগে এ কীর্তি ছিল জার্মানির (দুবার) এবং ব্রাজিলের (একবার)।
২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর কাতারে মরক্কোকে হারিয়েই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল লা ব্লুজরা। এবার টানা চার ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে দিদিয়ের দেশমের দল। গ্রুপ পর্বে তারা সহজেই হারায় সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে। তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল তাদের। তবে ৭০ মিনিটে এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে এটি দিদিয়ের দেশমের ২৫তম ম্যাচ হতে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শোনের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। শোন ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে ২৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির ডাগআউটে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এ ম্যাচে এমবাপ্পের সামনে সুযোগ আছে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলা অথবা টপকে যাওয়ার। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি গোলটি ছিল তার এ আসরের সপ্তম গোল। ২০২২ বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে এবারও দুর্দান্ত ফর্মে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন সবচেয়ে ভয়ংকর অ্যাটাকিং লাইনের।
প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ছিন্নভিন্ন করছেন এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলা। এ চারের রসায়নে ফরাসিদের আক্রমণভাগে যেন কোনো খুঁত নেই। পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে তারা। এবার আরও আধুনিক ফরাসি ‘রাফাল’-এর মুখে পড়তে যাচ্ছে মরক্কোর রক্ষণভাগ।
এমবাপ্পে সাত গোল করার পাশাপাশি এ বিশ্বকাপে দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। অ্যাসিস্টে তার চেয়ে এগিয়ে মাইকেল ওলিসে (পাঁচটি)। ১৯৭৮ সালে ব্রাজিলের জিকোর পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে ১০টির বেশি ড্রিবল (১১টি) আছে তার।
এ বিশ্বকাপে মরক্কোর পথচলাটা মসৃণ ছিল না। তাদের অভিযান শুরু হয় ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে। পরের দুই ম্যাচে তারা হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারায়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে তারা শেষ ষোলোতে ৩-০ গোলে কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহাবির কাজটা কঠিন করে দিয়েছেন দারুণ ফর্মে থাকা ইসমাইল সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে সবার নজর কেড়েছিলেন এ ফরোয়ার্ড। তবে শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ঊরুর চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
আটলাস লায়নদের আক্রমণভাগের দারুণ ছন্দ বজায় রাখতে ব্রাহিম দিয়াজ এবং আশরাফ হাকিমিদের নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব।
চোট শঙ্কা আছে ফরাসি শিবিরেও। অরেলিয়ান চুয়ামেনি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কুঁচকির চোটে পড়েছিলেন। তিনি সেরে উঠতে না পারলে মাঝমাঠে মানু কোনের খেলার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা পিঠের চোট নিয়েও প্যারাগুয়ে ম্যাচে ভুগেছেন।
রক্ষণ বা মাঝমাঠে খানিক সমস্যা হলেও ফ্রন্টলাইনে আছে ফরাসি যুদ্ধবিমান রাফালের শক্তি। তার সামনে পড়েই উড়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষ। এটি থামাতে পারলেই মরক্কো ম্যাচে থাকবে। খুলতে পারে সেমিফাইনালের দুয়ার।




