বিশ্বকাপ
কাসেমিরোকে বাদ দেওয়ার দাবি

সংগৃহীত ছবি
মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের পর ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে সমালোচনা। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেলেসাওদের এমন ছন্নছাড়া ফুটবল সমর্থকদের মোটেও স্বস্তি দিচ্ছে না। প্রথম ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে হার এড়ালেও হাইতি ম্যাচের আগে দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি তুলছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে কাসেমিরোর জায়গায় তরুণ কাওকে নেওয়ার পরামর্শ আসছে।
ইনজুরির কারণে নেইমার পুরো গ্রুপ পর্বেই মাঠের বাইরে। এই পরিস্থিতিতে আনচেলত্তিকে বড় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত- কাসেমিরো। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। মরক্কোর তরুণ আইয়ুব বোয়াদ্দির গতির সাথে কোনোভাবেই পেরে উঠছিলেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার। আটটি গ্রাউন্ড ডুয়েলের মধ্যে ছয়টিতেই হেরেছেন তিনি। একটি মরিয়া ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখার পর হাফ-টাইমেই তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন আনচেলত্তি। কাসেমিরোর বয়স যে তার পারফরম্যান্সে থাবা বসিয়েছে, সেটা এখন স্পষ্ট। কাসেমিরোকে উঠিয়ে নেওয়ার পর আনচেলত্তি মাঠে নামিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী ফ্যাবিয়েনহোকে, যিনি গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবের লিগে খেলছেন! অথচ ডাগ-আউটে বসে ছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে কাসেমিরোর উত্তরসূরি হতে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী এদেরসন। আতালান্তার এই মিডফিল্ডারকে রাইট-ব্যাক ওয়েসলির ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে নেওয়া হলেও ব্রাজিলের মাঝমাঠে তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস এবং মার্কিনিওসের মতো বিশ্বসেরা দুই সেন্টার-ব্যাক থাকলেও ব্রাজিলের ফুল-ব্যাক পজিশন দুটি বেশ নড়বড়ে। মরক্কো ম্যাচে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলে রীতিমতো নাকানিচুবানি খেয়েছেন রজার ইবানেজ। কাসেমিরোর মতো তিনিও প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়েন। ব্রাজিল ডিফেন্সের গড় বয়স এখন ৩১ পেরিয়েছে। ডগলাস সান্তোস (৩২), দানিলো (৩৪) কিংবা অ্যালেক্স সান্দ্রো (৩৫) সবাইকে বার্ধক্য গ্রাস করছে। এই বুড়ো রক্ষণভাগে গতি ফেরাতে অনুশীলনে এদেরসনকে রাইট-ব্যাক হিসেবেও পরখ করে দেখেছেন আনচেলত্তি।
টানা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের ট্রফিহীন ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে আগামীকাল যদি আনচেলত্তি তরুণদের নিয়ে সাহসী ছক না আঁকেন, তবে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন ভঙ্গ হতে পারে সেলেসাওদের।
- গোল ডটকম অবলম্বনে





