সবার আগে মেক্সিকো

১৯৯৪ থেকে ২০১৮— টানা সাত বিশ্বকাপে শেষ ১৬-তে খেলেছিল মেক্সিকো। সাফল্যের এই গাড়ি থামে কাতারে, তারা ছিটকে যায় গ্রুপ পর্ব থেকেই। চার বছর পর সহ-স্বাগতিক হয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হলো তারা। লুইস রোমোর একমাত্র গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় পর্ব বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করল মেক্সিকো।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের পর তারাই প্রথম স্বাগতিক দল, যারা প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম না করেই পেয়েছে জয়ের দেখা। এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেরা হয়ে পরের ধাপে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত মেক্সিকোর।
চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারানোর তরতাজা স্মৃতি নিয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে এস্তাদিও গুয়াদালহারায় খেলতে নেমেছিল এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথমার্ধে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়েও গোল পায়নি তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকো ঘুরে দাঁড়িয়ে ঠিকই গোল আদায় করে নেয়। কোরিয়া গোলকিপার কিম সেউন গিউর গ্লাভস ফসকালে দারুণ প্লেসিংয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন লুইস রোমো।
৩১ বছর বয়সী রোমো খেলেন মেক্সিকোর ক্লাব সি ডি গুয়াদালহারায়। এই ক্লাবের হোম ভেন্যু এস্তাদিও আকরন, সেখানকার প্রতিটি ঘাসই তার চেনা। সেই এস্তাদিও আকরনেই ৫০তম মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপ অভিষেকটা রাঙালেন তিনি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে অবশ্য রাউল জিমেনেসকে গোল করতে দেননি কোরিয়া কিপার। দারুণ তৎপরতায় রাউলের শট রুখে দেন গিউ। সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল দক্ষিণ কোরিয়ান অধিনায়ক সন হিউং-মিনের সামনে। তিনি গোলকিপার রাউল রানহেলকে পরাস্ত করলেও অফসাইডের কারণে গোল পায়নি এশিয়ার দলটি। প্রথম দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করলেও ম্যাচে নিজেদের খেলায় খুশি নন একমাত্র গোলদাতা রোমো। মেক্সিকান টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মনে হয় না দাপটে নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি। তবে জয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এই জয়ে গতবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ না পড়াটা নিশ্চিত হয়েছে আমাদের।’
কোচ হাভিয়ের আগুইরের কণ্ঠেও একই সুর, ‘২০০২ বিশ্বকাপে আমরা ইতালিকে পেছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষে ছিলাম। এবারও এখনো শীর্ষে। তবে পরিসংখ্যান বড় কিছু নয়। আমরা ম্যাচটি ভালো খেলিনি। প্রতিপক্ষ সেই সুযোগই দেয়নি। আরও কঠিন সময় আসছে সামনে।’
‘এ’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১-১ গোলে ড্র করায় সমীকরণটা এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। মেক্সিকো এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছে শেষ ৩২-এ। তারাই সম্ভবত হবে গ্রুপসেরা। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ডে’তে জানা যাবে দ্বিতীয় হয়ে কারা যাবে পরের ধাপে। ২৫ জুন কোরিয়া খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। সেদিন একই সময়ে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র।




