পাঁচ পজিশনের সেরা পাঁচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গোলের প্রহরী
গোলকিপার হিসেবে আমার প্রথম পছন্দ উনাই সিমন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অসাধারণ। সে ম্যাচে বক্স থেকে বের হয়ে এসে সুইপার হিসেবে ফ্রান্সের দারুণ কিছু সুযোগ শুরুতেই শেষ করে দিয়েছেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনা হয়তো সেভাবে তাকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। তবে সুইপার হিসেবে এ ম্যাচেও মেসিকে একটি আক্রমণ রচতে দেননি তিনি। আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন, যা বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড।
রক্ষণের সৈনিক
বিশ্বকাপের মঞ্চে রক্ষণ সামলানো সহজ কাজ নয়। এই কঠিন কাজটা দারুণভাবে করেছেন পাউ কুবারসি। স্পেনের ১৯ বছরের তরুণ সেন্টারব্যাক এক কথায় অসাধারণ। স্পেনের রক্ষণ সুরক্ষিত রাখতে প্রায় সব ম্যাচেই বড় ভূমিকা রেখেছেন কুবারসি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে রাখতে বড় ভূমিকা ছিল তার। ফাইনালে ১২১টি সফল পাস দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ছয়টি বল ক্লিয়ার করেছেন তিনি। এরিয়াল ডুয়েল জিতেছেন দুটি। অনন্য পারফরম্যান্সে কুবারসি জিতে নিয়েছেন আসরের সেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি।
মাঝমাঠের নোঙর
হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনে রোদ্রিই আমার একমাত্র পছন্দ। স্পেনের খেলা বিল্ডআপ, গতি নিয়ন্ত্রণ, সঠিক জায়গায় থেকে বল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামিয়ে দেওয়ার কঠিন কাজগুলো দারুণভাবে করেছেন। স্পেন অধিনায়ক বিশ্বকাপে মাঠে ছিলেন ৭২৬ মিনিট। আসরের সর্বোচ্চ ৮১১টি পাস দিয়েছেন। এর মধ্যে সফল পাস ছিল ৭৫৬টি। অতীতে এমন কীর্তি গড়তে পারেননি কেউই। যখনই স্পেন বিল্ডআপে গিয়েছে, নিশ্চিতভাবে সেখানে রোদ্রির দেখা পাবেন। ফিফাও তার হাতে তুলে দিয়েছে আসর সেরার স্বীকৃতি।
আক্রমণভাগের কারিগর
আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে একটি দলের মূল চালিকাশক্তির কাজটা করে প্লে-মেকাররা। এখানে চলে আসে দুজনের নাম। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তবে মেসিকেই বেছে নিতে হয়েছে নানা কারণে। ফাইনালে হয়তো সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে প্রথম সাত ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে ভীতি ছড়াতে মেসির জুড়ি ছিল না। খেলার গতি-প্রকৃতি আগের মতোই লহমায় পাল্টে ফেলছেন। এই বিশ্বকাপে ফরোয়ার্ড হিসেবে শুরু করলেও বেশিরভাগ সময় একটু নিচে নেমে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ রচনা করেছেন। ৮ গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩ গোল। বেলিংহাম ভালো খেললেও মেসির সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই তার তুলনা চলে না।
গোলমেশিন
গোলের দিক থেকে এবারও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্ভাগ্য, তার দল সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর কাজটা নিপুণভাবে করেছেন তিনি। গত শনিবার রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারলেও তিনি করেছেন জোড়া গোল, যা তাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে পাইয়ে দিয়েছে গোল্ডেন বুট। এমবাপ্পে টানা তিন বিশ্বকাপ খেলে সর্বোচ্চ ২২ গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। এ বিশ্বকাপ ১০ গোলে শেষ করেছেন। এখানে রাখা যেত নরওয়ের আর্লিং হলান্ডকেও। ৭ গোল করেছিলেন ম্যানসিটি তারকা। তবে তার দলকে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হওয়ায় সেরার বিবেচনায় তাকে রাখা যাচ্ছে না।









