ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নের নায়ক ভিনিসিয়ুস

প্রথম দুই ম্যাচের শঙ্কা ও সমালোচনা উড়ে যায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯০ মিনিটের ঝড়ে। ব্রাজিলের ভালো পারফরম্যান্সের সঙ্গে ৩-০ গোলের জয়ে ভয় বদলে গেল বিশ্বাসে। সন্দেহ বদলে গেল স্বপ্নে। এই স্বপ্নের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জোড়া গোলের নায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-হলুদ জার্সির নতুন নক্ষত্র, যে আলোয় বিশ্বকাপে পথ খুঁজতে শুরু করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচ জিতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা পৌঁছেছে শেষ ৩২-এ। শুরু হবে নক-আউটের কঠিন লড়াই। তার আগে যেন একটু অক্সিজেন পেল ব্রাজিল। সত্যি বললে, প্রথম দুই ম্যাচে সেলেসাওদের খেলায় খুব আশ্বস্ত হতে পারেনি সমর্থকরা। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতির ম্যাচ জিতেছে, তবু কোথাও যেন রঙের খামতি ছিল, সুরের অভাব ছিল। তাই স্কটল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে ছিল রাজ্যের উদ্বেগ। এই দল কি সত্যিই সামনে এগোতে পারবে? বিশ্বকাপ না হোক, অন্তত খেলার ছন্দটা তো পারে!
সেটা ফিরে পেয়েছে। স্কটল্যান্ড ম্যাচে এসে যেন সেই সুরের বাঁধন খুলে গেল। বল পায়ে ভুলটা কমেছে, আক্রমণে গতি ফিরেছে— সব দ্বিধা কাটিয়ে মাঠে ব্রাজিলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। তার মূলে আছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ৬ মিনিটের গোলটি। একদম কুড়িয়ে পাওয়া গোল। ডিফেন্ডার ম্যাকেইনার শট ব্রাজিলের রাইনার পায়ে লেগে ভিনির কাছে গেলে স্কটিশদের সর্বনাশের শুরু। এই ফরোয়ার্ড গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পৌঁছে দিলে মেঘ না চাইতেই জল পায় ব্রাজিল। এমন শুরুর পর সুরতাল ঠিকঠাক না কি হয়ে পারে! বিরতিতে যাওয়ার আগে আরেকবার হয়েছে ভিনি-শো। গিমারেসের ক্রসে তার লক্ষ্যভেদী হেডে ব্রাজিল এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।
তিন ম্যাচে তার ৪ গোল। সুযোগ নষ্ট না হলে এই ম্যাচেই তার হ্যাটট্রিক হয়ে যায়। এখন ভিনিকে নিয়ে আর পুরনো অপবাদ দেওয়া যাাবে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ব্রাজিলের জার্সিতেও সমান উজ্জ্বল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেলেসাওদের নতুন নায়ক তিনি। রাফিনিয়া ইনজুরিতে পড়ায় নতুন দুশ্চিন্তা শুরু হলেও রিয়ালের এই ফরোয়ার্ড একাই পার করে দিয়েছেন স্কটিশ-বাধা। পাশাপাশি বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্রাজিলের প্রধান অস্ত্র হিসেবে।
এই দলে খুব বড় নাম নেই। খ্যাতিরও জোর নেই। খুঁতও নাকি ব্যাপক। তাই বিশ্বকাপে ফেবারিটের তকমাও নেই। কিন্তু সেলেসাও ফুটবলের ঐতিহ্যের ছোঁয়া তো থাকবেই। অন্য দলের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা না থাকুক, কেউ না কেউ তো দাঁড়িয়ে যাবে হলুদের রং ছড়িয়ে। সেই রঙের মানুষটিই হলেন ভিনিসিয়ুস। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যেন খুঁজে পেয়েছে তাদের নতুন বিশ্বকাপ তারকা। তার ড্রিবল, ফিনিশিং— সবই হয়ে উঠেছে সেলেসাওদের আশার প্রতীক। তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে সমর্থকরা।
৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের হ্যাটট্রিক হতে পারত। স্কটিশ গোলকিপার গানের দুর্দান্ত সেভে এই ব্রাজিলিয়ান হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হলেও দ্বিতীয়ার্ধে তার দলের খেলায় ফিরেছে রূপ-ছন্দ— সবই। বিশেষ করে অ্যটাকিং থার্ডে গিয়েই দেখা গেছে সাম্বার ঝলক। এই উপভোগের ফুটবলে কুনিয়াও পেয়ে গেছেন নিজের তৃতীয় গোল। গিমারেইস বল নিয়ে ঢুকে বের করে আনেন দুই ডিফেন্ডারসহ গোলকিপারকেও, এরপর কুনিয়া শুধু গোলের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন।
সেই কুনিয়ার জায়গায় ৭৬ মিনিটে নামেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মাঠে নামেন হলুদ জার্সিতে। তখন অবশ্য কোনো চাপ নেই। বলের সঙ্গে এই তারকার সহজাত বন্ধুত্বটা ফেরাতে চেয়েছেন কোচ। অল্প সময়ে ঝলক বলতে কাউন্টারে একটা চমৎকার বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুসের কাছে। তাতে সেরকম কিছু হয়নি তবে সামনের দিনে হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভিনি-নেইমার জুটি জমলে নতুন মাধুর্য ফিরবে সেলেসাও ফুটবলে।




