বিশ্বকাপ
সালাহদের ৭ তারকা বাতিল, উরুগুয়ের ৪ তারকা বৈধ কেন?

মিসরের জার্সিতে সাত তারকা উঠিয়ে দিলেও উরুগুয়ের জার্সিতে চার তারকা থাকছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব প্রকাশ করতে চেয়েছিল মিসর। আফ্রিকার কাপ অব নেশনসের (আফকন) রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা তাদের জার্সিতে ফেডারেশনের লোগোর চারপাশে সাতটি তারকা খোদাই করে বিশ্বমঞ্চে নামার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মিসরীয় ফুটবলারদের সেই জার্সির নকশা অনুমোদন দেয়নি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশ শুধু বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবেই জার্সিতে তারকা ব্যবহার করতে পারবে। ফলে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে ১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০০৮ এবং ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক সাতটি শিরোপার গৌরবের চিহ্ন ফারাওদের জার্সিতে থাকছে না। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও একই কারণে মিসরকে মহাদেশীয় ট্রফির তারকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফিফা।
শুধু তারকাই নয়, মিসরের জার্সির নম্বরের রঙ নিয়েও আপত্তি তুলেছে ফিফা। লাল জার্সির ওপর সোনালি রঙের নম্বরের বদলে সাদা রঙের নম্বর ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠের ভেতর রেফারি ও দর্শকদের নম্বর দেখতে সুবিধা হয়। অবশ্য এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন। বিকল্প জার্সি পরেই অফিসিয়াল ফটোশুট সেরেছেন সালাহরা। আগামী সোমবার সিয়াটলে গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই বিকল্প জার্সি পরেই মাঠে নামবে মিসর।
মিসরকে মহাদেশীয় ট্রফির তারকা ব্যবহারে বাধা দিলেও উরুগুয়ের ক্ষেত্রে নিময় কি ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে? দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে মাত্র দুবার (১৯৩০ ও ১৯৫০) বিশ্বকাপ জিতলেও তাদের জার্সিতে শোভা পায় ৪টি তারকা। ১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসার আগে, ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের ফুটবল ইভেন্ট দুটি সরাসরি ফিফা নিজে আয়োজন করেছিল।
ওই সময় অলিম্পিক জয়ী দলকেই ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে গণ্য করা হতো। তাই দুই অলিম্পিক স্বর্ণের পদককেও বিশ্বকাপ হিসেবে প্রচার করে থাকে উরুগুয়ে। যেহেতু উরুগুয়ের বাড়তি দুটি তারকা অলিম্পিকের হলেও তা ফিফার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এবং স্বীকৃত বিশ্ব শিরোপা ছিল, তাই সেটিকে উরুগুয়ের জার্সিতে রাখার অনুমতি বহাল রেখেছে ফিফা। তবে মিসরের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর উরুগুয়ের এই ‘বিশেষ সুবিধা’ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।



