মেসি-সালাহ দ্বৈরথ
লড়াইয়ের ভেতরের লড়াই

সংগৃহীত ছবি
প্রজন্মের সেরা দুই ফুটবলার এই ম্যাচে মুখোমুখি। দুজনেই নিজ দলের প্রাণভোমরা। আর্জেন্টিনার আছে লিওনেল মেসি, মিসরের মোহাম্মদ সালাহ। বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে এই দুই তারকার দিকেই থাকবে সব চোখ। আর্জেন্টিনা-মিসর লড়াইয়ের ভেতর যেন এ এক অন্য লড়াই।
আর্জেন্টিনার আছে মেসি। মিসরের কে আছে? আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এমনটা বলতেই পারেন। নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন লিও। কে বলবে, ৩৯ বছর বয়স তার! ৪ ম্যাচে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৭ গোল। মেসিতে ভর করেই শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে লিওনেল স্কালোনির দল।
মিসরের কে আছে, এই প্রশ্নের জবাবটা অবশ্য দারুণভাবেই কোচিং স্টাফের সদস্য এবং প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ভাই ইব্রাহিম হাসান ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘তাদের ২৬ জন মেসি আছে’!
মিসরীয় চ্যানেল সাদা আল-বালাদকে দলের এই সহকারী কোচ জানিয়েছেন, মেসির
দিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়াই যাবে না, ‘ওদের মেসি আছে; কিন্তু আমাদের আছে মোহাম্মদ সালাহ
এবং ২৬ জন মেসি। আশা করি আল্লাহ আমাদের প্রতিদান দেবেন। আমরা মেসিকে দেখি না। খেলোয়াড়দের
বলি, প্রতিপক্ষের দিকে মনোযোগ না দিয়ে, নিজেদের খেলাটা খেলো।‘
মেসিকে নিয়ে ভাবতেই চান না হাসান, ‘মেসির বিপক্ষে খেলা? এটা নিয়ে আমরা ভাবছিই না।
আমাদের পুরো মনোযোগ মিসর জাতীয় দলের ওপর। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লড়াই করতে নামি, প্রতিপক্ষে
মেসি থাকুক বা অন্য যে কেউ। আমাদের আছে মোহাম্মদ সালাহ, আর সেই সঙ্গে আছে একঝাঁক শীর্ষ
মানের খেলোয়াড়।‘
কিন্তু না ভাবলেই কী। মেসি যে এই ম্যাচেও সবচেয় বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চয়ই জানেন মিসর কোচ হোসাম হাসান। দলের ডিফেন্ডারদের তাই বিশেষভাবেই নজর রাখতে বলবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দিকে।
নজর থাকবে সালাহর দিকেও। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই জিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন লিওনেল স্কালোনি। মিসরের বিপক্ষে তাই একাদশে আসতে পারে তিন পরিবর্তন।
অলিম্পিক লিওঁর খেলোয়াড় নিকোলাস তাগিয়াফিকো তার পুরনো জায়গা ফিরে পেতে পারেন, যা এতদিন সামলাচ্ছিলেন ফাকুন্দো মেদিনা। সালাহকে আটকানোর দায়িত্ব উঠতে পারে তার কাঁধেই। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগেও আসতে পারে পরিবর্তন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণে দারুণ দৃঢ়তা দেখায় মিসর। সালাহ ও ওমার মার্মুশদের পাল্টা আক্রমণের ওপরই নির্ভর করছিল তারা। একই কৌশল আফ্রিকান দলটি নিতে পারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও।
মেসি যেমন আর্জেন্টিনার জন্য, তেমনি মিসরের জন্য, শতভাগ ফিট সালাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট দুর্ভাবনা নিয়ে। ১২০ মিনিটের ওই ক্লান্তিকর ম্যাচে, অনেক সময় তাকে খুব একটা পুরো দমে ছুটতে আগ্রহী হতে দেখা যায়নি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সালাহর ফিটনেস নিয়েও তাই কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকবে মিসর।
আর্জেন্টিনা অবশ্য পুরো শক্তির মিসরকে ভাবনায় রেখেই ছক কষছে। পারেদেস তাই ম্যাচের আগে সতীর্থদের সতর্ক করে দিলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলে, ‘এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ হবে। আমরা ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আছি এবং সব জাতীয় দলই খুবই ভালো এবং শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী।‘
সালাহ- মার্মুশদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারেন আর্জেন্টাইন কিপার এমি মার্তিনেস। গত ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু সেভেই টাইব্রেকারে যাওয়া থেকে বেঁচে গেছেন মেসিরা। সালাহরা কীভাবে এমির এই দুর্গ ভেঙে বল জালে জড়াবেন, সেই পরিকল্পনাই করছেন হাসানের দল।
সব লড়াই ছাপিয়ে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ যেন মেসি-সালাহর ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। এই যুদ্ধ শেষে কোন কিংবদন্তিকে বিদায় নিতে হবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।






