সাবেকদের ক্ষোভ
জার্মানিকে কেউ আর ভয় পায় না

জার্মান কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানের চাকরি এখন সুতোয় ঝুলছে।
২০১৪ সালের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পর কেটে গেছে এক যুগ। এই ১২ বছরে বিশ্ব ফুটবলে জার্মানি মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাস, এক চরম দুঃসময়ের আবর্তে ঘুরপাক খাওয়া এক ভাঙাচোরা দল। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপেও কাটল না সেই অন্ধকার। রাউন্ড অব বত্রিশে লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এক সময় জার্মানি মানেই ছিল ‘লাস্ট মিনিট ড্রামা’ কিংবা টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়। অথচ এদিন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কাই হাভার্টজ ও নিক ভোল্টমেডের শট যখন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রুখে দিলেন, আর জোনাথন তাহর শট যখন পোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে গেল, তখন যেন জার্মানির ফুটবলীয় গৌরবের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হলো।
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও ইকুয়েডরের কাছে হার এবং সবশেষে প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক দেয়ালের সামনে ছন্নছাড়া ফুটবল জার্মানির ভেতরের কঙ্কালটাই বের করে এনেছে। এই ব্যর্থতার জেরে কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানের চাকরি এখন সুতোয় ঝুলছে। জার্মানিজুড়ে এখন একটাই আওয়াজ—নাগেলসম্যানকে হটিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপকে ডাগআউটে আনা হোক।
জার্মানির এই দুঃসময় নিয়ে সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার থমাস হিৎজলসপার্গার বিবিসি স্পোর্টসকে বলেছেন, জার্মানি এখন সুন্দর ফুটবল খেলার মোহে পড়ে আসল ধারটাই হারিয়ে ফেলেছে। তার ভাষায়, 'একটা সময় ছিল যখন অন্য দলগুলো জার্মানিকে ভয় পেত। মাঠে আমাদের একটা আলাদা দাপট ছিল। প্রতিপক্ষ এখন আমাদের সমীহ করে ঠিকই, কিন্তু কেউ আর ভয় পায় না। আমরা মাঠে সেই শারীরিক ফুটবল ও আগ্রাসন হারিয়ে ফেলেছি, যা আমাদের চেনা জার্মানি বানিয়েছিল।'
জার্মানির ফুটবল একাডেমিগুলোর দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা এখন কেবল পাসিং ফুটবল আর ট্যাকটিকস নিয়ে মেতে আছি। কিন্তু ফুটবল তো দিনশেষে জেতার খেলা। আর্জেন্টিনার দিকে তাকান, ওরা কঠিন ফুটবল যেমন খেলতে পারে, আবার মুহূর্তের মধ্যে জাদুও দেখাতে পারে। আমরা সেই মানসিকতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি।'
ম্যাচ শেষে কোচ নাগেলসম্যান অবশ্য পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, 'আমি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই। ডিএফবি (জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) চাইলে আমি থাকব।'
কিন্তু জার্মান ফুটবল বিশ্লেষক রাফায়েল হনিগস্টেইনের মতে, এই হারের পর নাগেলসম্যানের টিকে থাকা অসম্ভব। তিনি বলেন, 'আপনি বিদায় নিতেই পারেন, কিন্তু প্যারাগুয়ের কাছে এই ধাচে হেরে বিদায় নেওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই পতনের বড় খেসারত দিতেই হবে।'
গ্রুপ পর্বের বাধা কোনোমতে পার হলেও নকআউটের প্রথম ধাক্কাতেই জার্মানির এই মুখ থুবড়ে পড়া প্রমাণ করে, টানা কয়েক বছর ধরে চলা দেশটির ফুটবলের এই দুঃসময় কাটেনি। বরং তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।






