হ্যাটট্রিক আর হাতাহাতির ম্যাচে নায়ক ডেভিড

তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ ছিল তার। যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি না কানাডা; কোন দেশের হয়ে খেলবেন, সে নিয়েই ছিল দ্বিধা। জোনাথন ডেভিড শেষ পর্যন্ত বেছে নিলেন কানাডাকেই। আর কানাডার হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাসও গড়লেন ডেভিড। তার রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে স্বাগতিক দেশটি।
২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জন্ম তার। ডেভিডের বাবা-মা অবশ্য ছিলেন হাইতির নাগরিক। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবার নিয়ে তিনি চলে যান কানাডার অটোয়ায়। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং ফুটবলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি। ফলে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তিনি বেছে নেন কানাডার জাতীয় দলকে।
ইউরোপে পাড়ি জমানোর আগে স্থানীয় ক্লাবগুলোতে ভালো পারফর্ম করেছেন ডেভিড। পরে বেলজিয়ামের জেন্টে যোগ দিয়ে নজর কাড়েন। গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, বক্সের ভেতরে ঠান্ডা মাথা এবং দুই পায়ে সমান দক্ষতার কারণে দ্রুতই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন। এরপর যোগ দেন ফ্রান্সের লিলে। সেখানেই দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে আলো ছড়িয়েছেন। এরপর তাকে লুফে নেয় ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব জুভেন্টাস।
জাতীয় দলের জার্সিতেও ডেভিডের উত্থান চোখে পড়ার মতো। ২০১৮ সালে অভিষেকের পর থেকেই ছিলেন আলফানসো ডেভিসের ছায়া হয়ে। তবে ধীরে ধীরে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মিত গোল করে গেছেন। আর এতেই বিশ্বকাপের আগে দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন ডেভিড।
আগের বিশ্বকাপে খেললেও তেমন কিছু করে দেখাতে পারেননি ডেভিড। দলের সেরা সেট পিস তারকা হলেও সেবার ডেভিডকে একটি পেনাল্টি না নিতে দেওয়ায় বেশ আলোচনা হয়েছিল। এবার আক্ষেপ ঘুচল নিজেদের মাঠেই। দ্বিতীয় ম্যাচেই পেলেন হ্যাটট্রিক। এই হ্যাটট্রিকে ইংলিশ কিংবদন্তি জিওফ হার্স্টের পাশে বসেছেন ডেভিড। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে জিওফ হার্স্টের পর ডেভিডই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ঘরের মাঠে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন। কানাডার ইতিহাসে আগে থেকেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেভিড; জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো ৭৯ ম্যাচে ৪২টি।
ডেভিডের হ্যাটট্রিকের ম্যাচটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। দুই লাল কার্ড ও ম্যাচের পর ফুটবলারদের মারামারি; এসবই ছিল আলোচনায়। ৩৩ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। হুমাম আহমেদ তাজোন বুকাননকে বাজে ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বিরতির পরপর কাতারের আসিম মাদিবো, ইসমায়েল কোনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলে কাতারের খেলোয়াড় সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ৯ জনে। এই ফাউলে পা ভেঙে গেছে কোনের। এ ঘটনায় গ্যালারিতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া, মাঠে শুরু হয় সংঘাত। ফাউলের পর মাঠের ভেতরেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়।
ইসমাইলের আঘাত পাওয়ার দৃশ্য দেখে ডিফেন্ডার অ্যালিস্টার জনস্টন স্তব্ধ হয়ে যান। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার অনুশীলনে সতীর্থ তাজন বুকাননের পা ভেঙে যাওয়ার সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে তিনি বলেছেন, ‘আমি মাঠের অন্য প্রান্তে ছিলাম, কিন্তু বুকাননের চোটের সময় যেমন বুলেটের মতো শব্দ শুনেছিলাম, এবারও ঠিক তেমনটিই মনে হলো।’ ৬-০ গোলের বিশাল হারের পর দুই দলের ফুটবলাররা অাবারও জড়িয়ে পড়েন তর্কে। সেই তর্ক রূপ নেয় হাতাহাতিতে। বেশ কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেন।
এদিকে ১০ জনে পরিণত হওয়া বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারায় সুইসরা। সুইসদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ইয়োহান মানজাম্বি। একটি করে গোল করেন রুবেন ভারগাস ও গ্রানিত জাকার।




