কথার লড়াই
তাদের উচিত মেসিকে জড়িয়ে ধরে রাখা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও উত্তাপ ছড়িয়েছে কথার লড়াই। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে পিছু হটার পাত্র তিনি নন। উল্টো আর্জেন্টাইন এই দুই ডিফেন্ডারকে এক হাত নিলেন নেভিল।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেভিল তার পুরনো অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, তারা গোল উপহার দেয়। নকআউট পর্বে চার ম্যাচে তারা ছয় গোল খেয়েছে। যদি তাদের আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি না থাকত, এই দুই ডিফেন্ডারের উচিত প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত মেসিকে জড়িয়ে ধরে রাখা। মিসর, কেপ ভার্দে, সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ভুলগুলোই মেসি ঢেকে দিয়েছে।’
নেভিল আরও যোগ করেন, ‘রোমেরো এমন এক দলে খেলে, যারা গত বছর প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হওয়ার প্রায় দ্বারপ্রান্তে ছিল এবং ৬৫ গোল হজম করেছিল। আমি জানি, আমি কী নিয়ে কথা বলছি। তারা প্রতিভাবান, কিন্তু চরম ভুল করে। তারা অসামান্য আবার একই সঙ্গে হাস্যকরও।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর থেকেই নেভিলের সমালোচনা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা। ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুটি রোমেরো বলেন, ‘আমাদের রাগ হয়েছিল। কারণ, ওরা ম্যাচের আগে খুব বেশি কথা বলে। ইংল্যান্ডের মানুষ আগে থেকেই অনেক কথা বলে। তাই আমরা তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করি তারা এখন খুশি।’ লিসান্দ্রো মার্তিনেস আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘আমরা এসব সমালোচনা শুনে অভ্যস্ত। ওরা কথা বলতে ভালোবাসে, আর আমরা মাঠে জবাব দেই। আমার একটাই চাওয়া, অবসর নেওয়ার পর আমি যেন নেভিলের মতো এমন বোকামি না করি। অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে অহেতুক সমালোচনা না করি। আমরা ইতিহাস গড়ছি, আর তাতেই আমরা খুশি।’
পুরো ঘটনায় সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হলেও নেভিল শেষ পর্যন্ত মেসির প্রশংসায় কার্পণ্য করেননি। তিনি বলেন, ‘সে (মেসি) বিশ্বকাপ জিতেছে, অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়েছে। মেসি না থাকলে গত রাতের (বুধবার) সেমিফাইনাল ও আর্জেন্টিনার গত দুই টুর্নামেন্টের ফলাফল যে কী হতো, সেটা বলাই বাহুল্য। গত রাতে (বুধবার) যা দেখলাম, তা ছিল বিশুদ্ধ প্রতিভার খেলা।’
নেভিলের এই ‘সরাসরি আক্রমণ’ এবং আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘মাঠের জবাব’ দেওয়ার সংকল্প ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী রোববার ফাইনালের আগে এই উত্তাপ আলবিসেলেস্তেদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








