বিশ্বকাপ
তিন ফাইনালের ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্তি পাবে ডাচরা?

এশিয়ার রাজা জাপানের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে ভার্জিল ফন ডাইকরা।
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস দলটির বেইস ক্যাম্পের রাস্তা ধরে হেঁটে গেলে চোখে পড়বে ডাচ ভাষায় লেখা ‘স্বাগতম’। সকার ফ্র্যাঞ্চাইজি কানসাস সিটি কারেন্টের যে সুযোগ-সুবিধা ডাচরা ব্যবহার করছে, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাস্তার নাম ‘টিয়াল রাইজিং ওয়ে’ বদলে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে ‘অরেঞ্জ রাইজিং ওয়ে’। কিন্তু এই সুন্দর আয়োজনের মাঝেও সাদা রঙের সাইনবোর্ডে খোদাই করা ডাচ ফুটবলের মাইলফলকগুলো যেন এক একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম। প্রতিটি সাইনবোর্ড মনে করিয়ে দিচ্ছে এক নির্মম সত্য- ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর ঘরানার এই দলটি আজও বিশ্বকাপ শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি!
রবিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় টেক্সাসের ডালাসে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ডাচরা। তার আগে কানসাসের তীব্র গরমের মধ্যে অনুশীলন শেষে লিভারপুল তারকা ও ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক বলেন, ‘আমরা কতদূর যেতে পারি? আশা করছি একদম শেষ পর্যন্ত। আমরা জানি কাজটা কতটা কঠিন। তবে আপাতত আমাদের সব মনোযোগ কেবল জাপানের ওপর। আমরা খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না। তবে হ্যাঁ, আমাদের সবারই বড় স্বপ্ন আছে এবং আমরা আমাদের উজাড় করে দেব।’
ফুটবল বিশ্বে ডাচদের চিরন্তন তকমা ‘বিশ্বকাপ না জেতা ইতিহাসের সেরা দল’। বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেও শিরোপা অধরা রয়ে গেছে তাদের। প্রথমবার ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে ইয়োহান ক্রুইফের টোটাল ফুটবল মন্ত্রে ফাইনালে উঠেছিল ডাচরা। স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে পেনাল্টিতে শুরুতে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের দলের কাছে ২-১ গোলে হারতে হয় ক্রুইফদের।
বুয়েনস এইরেসে ১৯৭৮ আসরের ফাইনালে ডাচদের পরাজয়কে ‘সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এবারও প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক দেশ- আর্জেন্টিনা। ১-১ সমতায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে মারিও কেম্পেসের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গ হয় নেদারল্যান্ডসের। সেই বিপর্যয়ের দীর্ঘ ৩২ বছর পর ডাচরা তাদের তৃতীয় ফাইনাল খেলে স্পেনের বিপক্ষে ২০১০ সালে। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোল ডাচদের বুকে আবারও ছুরি চালায়।
টাইব্রেকার দুর্ভাগ্য বাদ দিলে, বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা শেষ ১২টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেবল ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে পেলের অপরাজেয় ব্রাজিলেরই (১৩ ম্যাচ) এর চেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ড রয়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা ডাচরা ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ভ্যান ডাইকরা।
সেই হৃদয় ভাঙা দলকে এক সুতোয় বেঁধে কোচ রোনাল্ড কোম্যান এবার ইতিহাস বদলাতে চান। তবে নক-আউট খেলার পথ অরেঞ্জদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। গ্রুপ ‘এফ’-এ তাদের সঙ্গী জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। এর ওপর চোটের কারণে ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বার। এমনকি আজ জাপানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিয়মিত গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জাপান ম্যাচ নিয়ে ডাচ কোচ কোম্যান বলেন, ‘আমরা জাপানকে বিশ্লেষণ করেছি। তাদের খেলার পদ্ধতি ও শারীরিক সক্ষমতা দারুণ। ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে আমরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখছি। আমরা জাপানকে সম্মান করি। তবে আমরাও নেদারল্যান্ডস; তাই ওরাও আমাদের সমীহ করবে।’
-ফক্স স্পোর্টস অবলম্বনে




