বিশ্বকাপ
তারুণ্যের জোয়ারে তুরস্ককে স্তব্ধ করে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জয়

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন এক নতুন অস্ট্রেলিয়ার জন্ম হলো। অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্যের ওপর বাজি ধরেছিলেন সকারুদের নতুন কোচ টনি পপোভিক। আর কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে রূপকথার এক জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক তিন তরুণ তুর্কি- নেস্টরি ইরানকুন্দা, পল ওকন-ইংসলার এবং গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের এক ঘণ্টা আগে যখন অভিজ্ঞ অধিনায়ক জ্যাকসন আরভিন ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাট রায়ানকে বেঞ্চে রেখে যে একাদশ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটার গড় বয়স মাত্র ২৪! টনি পপোভিকের এই কাণ্ড দেখে খোদ অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকেরাই বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলেছিলেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে পপোভিকের এই সাহসী ছকই সফল হলো।
খেলার ধারার বিপরীতে ২৭ মিনিটে কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে দলকে এগিয়ে নেন ওয়াটফোর্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড ইরানকুন্দা। ওকন-ইংসলারের চোখধাঁধানো এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। গোল উদযাপনে কিংবদন্তি টিম কাহিলকে স্মরণ করে কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে বক্সিংয়ের পোজ দেন এই তরুণ। প্রথমার্ধের ঠিক পরের মিনিটেই তুরস্কের বারদাকচির এক বুলেট গতির দূরপাল্লার শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় আঙুল ছুঁইয়ে পোস্টে প্রতিহত করেন ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরদা গুলের ও কেনান ইলদিজের একের পর এক আক্রমণ একাই রুখে দিয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন এই তরুণ গোলকিপার। শেষদিকে তুরস্ক যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই আরেকটি দুর্দান্ত প্রতি আক্রমণ থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফে (২-০)। এই জয়ে ২০০৬ সালের সেই সোনালি প্রজন্মের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে পুরো ভ্যাঙ্কুভারে হলুদ জার্সির উৎসবের জোয়ার বইয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া।



