ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের মধ্যে কী করেছিলেন এমবাপ্পেরা?

ফিলাডেলফিয়ার আকাশ তখন ঘন কালো মেঘে ঢাকা। কানাডিয়ান রেফারি ড্রিউ ফিশার যখন প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজালেন, ঘড়িতে তখন বিকাল ৫টা ৪৯ মিনিট। ফ্রান্স ১-০ গোলে এগিয়ে। এরপরই ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে বয়ে গেল এক তীব্র ঝড়। তুমুল বৃষ্টি আর একের পর এক বজ্রপাতে খেলা বন্ধ থাকল দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট।
বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচ যখন শেষ হলো, তখন ঘড়িতে রাত ৮টা ৪৭ মিনিট। বিশ্বকাপের ৪২তম ম্যাচে এসে এই প্রথম আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধের ঘটনা ঘটল। আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলেই খেলা বন্ধ করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতিতে ড্রেসিংরুমে কী করছিলেন ফ্রান্স ও ইরাকের ফুটবলাররা? কীভাবে ধরে রেখেছিলেন মনোযোগ?
ড্রেসিংরুমের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, ‘অনেক দীর্ঘ একটা সন্ধ্যা ছিল। ড্রেসিংরুমে প্রায় দুই ঘণ্টা মনোযোগ ধরে রাখা মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্তিকর। এর জন্য প্রচুর মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়েছিল। খেলোয়াড় ও স্টাফরা অবিশ্বাস্য চেষ্টা করেছে।’ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম অবশ্য স্বভাবসুলভ রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা তাস খেলছিলাম! না, আসলে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। একটু পরপর সময় পেছানো হচ্ছিল। তবে আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি, মজাও করেছি। এটা নিরাপত্তার বিষয়, আপনি তো আর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন না।’
অন্যদিকে ফরাসি ডিফেন্ডার
জুল কুন্দে জানালেন পেশাদার খেলোয়াড়দের শরীর সচল রাখার কৌশল, ‘শরীরকে সচল রাখতে আমরা ড্রেসিংরুমে ইনডোর সাইক্লিং করেছি। এরপর কিছুটা
সময় গল্প করে আবার গা গরম করেছি। আমরা সবাই মাঠে ফিরতে ব্যাকুল ছিলাম।’২ ঘণ্টার দীর্ঘ বিরতিই
কি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল? ইরাকের অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আরনল্ড মনে করেন,
এই বিরতির কারণেই ম্যাচের ৫৪ মিনিটে সেই মারাত্মক ভুলটি করে বসেন তার ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক,
যার সুবাদে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান। আরনল্ড বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, মানসিকভাবে যারা বেশি সচল থাকবে, তারাই জিতবে। কিন্তু
ওই ভুলটি আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। কোচ বা খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে এই প্রথম
এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম।’
বিরতির সময়টা অবশ্য শুধু
অলস বসে কাটায়নি ইরাক। কোচ আরনল্ড জানালেন, ড্রেসিংরুমে প্রথমার্ধের ভিডিও ফুটেজ দেখে
খেলোয়াড়দের ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার কাজটাই করেছিলেন তিনি। ফুটবলাররা যখন ড্রেসিংরুমে
বন্দি, গ্যালারিতে থাকা ৬৮ হাজার ৩৪৪ জন দর্শক তখন স্টেডিয়ামের শেডের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
মাইকে বারবার ঘোষণা আসছিল আবহাওয়ার আপডেট নিয়ে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর যখন ঘোষণা করা হলো
ঝড় কেটে গেছে, তখন গ্যালারি জুড়ে যে গর্জন উঠেছিল, তা হয়তো ফ্রান্সের গোলের চেয়েও বেশি!
দর্শকরা রেইনকোট পরেই গ্যালারিতে নাচতে শুরু করেন।









