বিশ্বকাপের শুরুতেই না ফেরার দেশে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার

সংগৃহীত ছবি
ফুটবলবিশ্ব যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের আমেজে মেতে আছে, ঠিক তখনই ব্রাজিলের ফুটবল আঙিনায় নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। বিদায় নিলেন ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে শিরোপা জেতা ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ব্রিতো।
গ্লোবো স্পোর্ত জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রিও ডি জেনিরোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রিতো শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত ১৪ মে থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।ব্রিতোর চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৭০ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘ত্রিক্যাম্পেওঁ’ বা তৃতীয় বিশ্বকাপজয়ী দলের সপ্তম সদস্যকে হারাল ব্রাজিল। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের যে জোয়ার বিশ্ব দেখেছিল, তার রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন ব্রিতো। ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি মূল একাদশে খেলেছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি ও স্ট্যামিনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের পুরো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডের মধ্যে ব্রিতোর ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতা ছিল সবচেয়ে সেরা। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে তিনি মোট ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ব্রাজিল দলের অংশ ছিলেন। পেলে, কার্লোস আলবার্তো, গারিঞ্চা কিংবা মারিও জাগালোর পর এবার বিদায় নিলেন ডিফেন্সের মূল ভরসা ব্রিতো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই অপরাজেয় দলের একে একে প্রায় সব নক্ষত্রই এখন আকাশের তারা।ব্রিতোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু এবং স্বর্ণযুগ কেটেছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ভাস্কো দা গামায়। ক্লাবটিকে তিনি নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাস্কো দা গামার রক্ষণ সামলেছেন এবং ক্লাবটির হয়ে ৪০০-র বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
পরে ১৯৬৯ সালে তিনি আরেক বিখ্যাত ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপটি তিনি ফ্ল্যামেঙ্গোর খেলোয়াড় হিসেবেই খেলেছিলেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর একই বছর তিনি ক্রুজেইরোতে যোগ দেন। এ ছাড়া ক্যারিয়ারের শেষভাগে ইন্টারন্যাশনাল, করিন্থিয়ানস এবং আতলেতিকো পারানাযেন্সের মতো নামী ক্লাবের হয়েও মাঠ কাঁপিয়েছেন এ কিংবদন্তি।







