ইংলিশ ফুটবলের স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের ‘থ্রি লায়ন্স’
- ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হার
- ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায়
- ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ
- গত ৮ বছরে ইংল্যান্ডের সাফল্য দুটো ফাইনাল ও দুটো সেমিফাইনাল খেলা

সংগৃহীত ছবি
অন্য সবার মতো ইংলিশ ফুটবলেরও একটা গোল্ডেন জেনারেশন ছিল। বলা হচ্ছে ডেভিড বেকহ্যাম, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, ওয়েন রুনি, রিও ফার্দিনান্দের কথা। এই শতাব্দীর প্রথম দশকের ইংলিশ তারকা। খুব আশা নিয়ে তাদের দিকে তাকিয়েও ইংলিশ ফুটবল সমর্থকরা গৌরবে ভাসার মতো কোনো ট্রফি পায়নি। বড়জোর কোয়ার্টার ফিইনালে গিয়ে শেষ হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ দৌড়।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডের পর টাইব্রেকারে হেরে শেষ হয়েছিল ইংল্যান্ড। চার বছর বাদে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোনালদিনিয়োর দুরপাল্লার ফ্রি-কিক ডেভিড সিম্যানকে হতবাক করে জালে জড়ালে কোয়ার্টার ফাইনালে থামতে হয় থ্রি-লায়ন্সদের। ২০০৬ বিশ্বকাপেও সেই কোয়ার্টার ফাইনালেই পুর্তগালের বিপক্ষে রুনির লাল কার্ডের সঙ্গে হারে সোনালী প্রজন্মের ইতি ঘটে। এর চূড়ান্ত বিদায়ঘণ্টা বাজে বোধহয় ২০০৮ ইউরো খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার মধ্য দিয়ে।
এই শতাব্দীল প্রথম দশকের এই ঝলমলে প্রজন্মের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে যেন আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’- নামের সেই গানটি। ‘ইংল্যান্ড গনা থ্রো ইট অ্যাওয়ে, ব্লো ইট অ্যাওয়ে’—অর্থাৎ আশা থাকবে কিন্তু ইংল্যান্ড নষ্ট করবে সব সুযোগ। বারবার তারা ঢাকঢোল পিঠিয়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে আসবে বিশ্বকাপে, কিন্তু ফিরবে শূন্য হাতে। এটাই নিয়ম হয়ে গেছে! অথচ তাদেরও তারকা থাকতো, ম্যাচ উইনার থাকতো কিন্তু তাদের হাতে শিরোপা ধরা দেবে না। সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে এই দুভার্গের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ইংলিশ ফুটবল। তাই ইংল্যন্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ ইউরো উপলক্ষে ডেভিড ব্যাডিয়াল, ফ্র্যাঙ্ক স্কিনার ও দ্য লাইটনিং সিডস লিখেছিলেন ‘থ্রি লায়ান্স’ গানটি। এটি আসলে ইংলিশ ফুটবলের হতাশা, স্বপ্ন, দুঃস্বপ্নের লিরিক যা এখনো খুব প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
’৯৬ ইউরোতে সেমিফাইনালে পৌঁছানো ইংল্যান্ডকে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আরেকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে। ২০১৮ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনালে পা রাখে, তবে ক্রোয়েশিয়ার কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। এরপর কোচ সাউথাগেটের অধীনে তারা টানা দুটো ইউরো’র ফাইনাল খেলেছে। ২০২১ সালে ইতালির কাছে হেরেছে টাইব্রেকারে, আর ২০২৪ সালে রানার্স-আপ হয়েছে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে। বারবার ফাইনালে গিয়েও পারছে না ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে।
এবার বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড, বুধবার মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনার। এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আছে ঐতিহাসিক বিরোধ ও নানা ঘটন-অঘটনের বৈরীতা। কোয়ার্টার ফাইনাল জেতার পরপরই আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা ফোড়ন কাটতে শুরু করেছে ইংলিশদের। একটা আগুনে সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে। তা উতরাতে পারলেই ফাইনাল। থ্রি লায়ন্সরা আরো একবার পৌঁছে যাবে শিরোপার কাছাকাছি।
ইংলিশ ফুটবলের সময়টা একদম খারাপ যাচ্ছে না। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ধরলে ৮ বছরে দুটো ফাইনাল ও দুটো সেমিফাইনাল খেলা চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু খুলছে না শিরোপার গোরোটা। এবার কেইন-বেলিংহামের পায়ে খুলতেও পারে সেই গোরো। ‘থ্রি লায়ন্স’ গানেও বলা হয়েছে, ‘কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো না।’




