মাতানোভিচের চুলেই সর্বনাশ ক্রোয়েশিয়ার!

সংগৃহীত ছবি
ক্রিকেটের ‘স্নিকোমিটার’ এসে গেছে ফুটবলেও! বলের সঙ্গে ইগোর মাতানোভিচের চুলের সামান্য স্পর্শও এড়ানো গেলো না! সাদা চোখে এই ক্রোয়াট ফুটবলারের মাথায় বল ছোঁয়ার কোনো স্পষ্ট ছবি নেই। কিন্তু ফুটবলের ভেতর বসানো চিপ যেখানে স্নিকোমিটারের মতো প্রযুক্তি সংযুক্ত, সেখান থেকে মিলছে স্পর্শের স্পষ্ট সংকেত। তাহলে মাতানোভিচের চুলের ছোঁয়ার শেষ হয়ে গেল মদরিচের বিশ্বকাপ !
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া মাচের এই দৃশ্য দেখে বেশ কয়েকজন ধারাভাষ্যকার বলেছেন, ‘এটা ভিএআর ইতিহাসের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।’ ঘটনাটা স্টপেজ টাইমের ১৩-তম মিনিটে। ক্রেয়েশিয়ার ডিফেন্ডার গাভার্দিওল বল ঠেলেন পর্তুগালের জালে। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়ান শিবিরে তখন সমতা ফেরানোর আনন্দ, সেই খুশিতে মাতোয়ারা গ্যালারির সমর্থকরাও। এখন ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে।
কিন্তু এর মধ্যে ঢুকে গেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফরি (ভিএআর)। তাই আনন্দের মাঝেও সবার উত্তেজনাপূর্ণ অপেক্ষা। প্রশ্ন একটাই, বিল্ডআপে বল ইগর মাতানোভিচের মাথা ছুঁয়েছিল কিনা। ছুঁলে আফসাইড, নইলে গোল বৈধ।
টেলিভিশনের রিপ্লৈতে নিশ্চত হওয়া যাচ্ছিল না। আবার স্নিকোমিটারের ওই প্রযুক্তি বলের সঙ্গে স্পর্শের স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্ত আসে, মাতানোভিচের মাথায় বলের স্পর্শ ছিল, তাই গোলটি বাতিল। সেটা টিভিতে দৃশ্যমান না হলেও, অন্তত ওই ফুটবলারের চুলের ছোঁয়া লেগেছে ফুটবলে। সেটাই বলছে স্নিকোমিটার।
ক্রোয়েশিয়ার জন্য বড় দুর্ভাগ্যজনক হয়ে গেল ব্যাপারটা। এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে থেমে গেছে মদরিচদের বিশ্বকাপ অভিযান।
ফুটবলেও স্নিকোমিটার প্রযুক্তি
এই প্রযুক্তি সাধারণত ক্রিকেটে খুব পরিচিত। সাধারণ মানুষের পক্ষে ছোট ক্রিকেট বলটির সঠিক গতি পর্যবেক্ষণ সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফুটবল অনেক বড় হলেও সিদ্ধান্ত আরো নিখুঁত করতে এবার বিশ্বকাপে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
অ্যাডিডাসের ট্রিওন্ডা ম্যাচ বলে একটি মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে যা যে কোনো স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে। রিয়াল টাইমে সেই তথ্য পাঠিয়ে দেবে ভিএআর -এর কাছে। তাই টিভিতে স্পষ্ট ছবি না থাকলেও স্নিকোমিটার ধরে ফেলেছে মাতানোভিচ চুলের ছোঁয়া।




