আনচেলত্তির ক্যারিশমা দেখার অপেক্ষায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ খেলেছিল মরক্কোর সঙ্গে এবং ১-১ ড্র করেছিল। গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ড ১-০ গোলে হাইতিকে হারায়। এই গ্রুপে স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে। এক পয়েন্টে মরক্কো ও ব্রাজিল যথাক্রমে দুই ও তিনে। ব্রাজিল মাস্ট উইন ম্যাচে মুখোমুখি হবে হাইতির। আর মরক্কো খেলবে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে হাইতি ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলেছিল। গোল হজমের আগে হাইতি একটা শক্ত ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করেছিল, যেটি ভেদ করা স্কটিশদের জন্য কঠিন ছিল। গোল হজমের পর হাইতি কৌশল বদলে আক্রমণে আসার চেষ্টা করেছে। আমার বিশ্বাস, ব্রাজিলের বিপক্ষেও হাইতির মনোভাব ও কৌশল একই রকম থাকবে। অর্থাৎ তারা শক্ত প্রাচীর গড়ে চাইবে নিজেদের ঘর সুরক্ষিত রাখতে।
ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলে এবং মরক্কোও একই ফরমেশনে খেলেছিল। ৪-২-৩-১ ফরমেশন অনুযায়ী ব্যাক ফোর থেকে খেলা বিল্ডআপ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে। দুঃখজনকভাবে সত্যি হচ্ছে, নিজেদের দায়িত্বটা কাসেমিরো ও গিমারেস ঠিকঠাক পালন করতে পারেননি। অর্থাৎ বলটা সেন্ট্রাল ব্যাক অথবা ফুলব্যাক পজিশন থেকে নিয়ে প্রোগ্রেস করতে পারছিলেন না। মরক্কো এতটাই প্রেস করে খেলছিল, তাতে তারা কোনোভাবেই বল নিয়ে টার্ন করতে পারছিল না। তাই প্রায়ই বল পজেশন হারিয়েছেন তারা।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের মিডফিল্ড কার্যকর হতে পারেনি, বল সামনে এগিয়ে দিতে পারেনি, যা নিয়ে গোলের চেষ্টা করতে পারে দলের ফরোয়ার্ড লাইন। ব্রাজিলের এই সমস্যাগুলো আছে। প্রশ্ন হলো, এই সমস্যাগুলোর উত্তরণের পথ কি ব্রাজিলের? এমনিতে ব্রাজিলের মিডফিল্ডে বিকল্প খুব বেশি নেই। গত ম্যাচে যখন কাসেমিরোকে বসিয়ে ফাবিয়ানহোকে নামানো হয়, তখন মিডফিল্ড একটু সহজ হয়। তবে সেটিও স্বার্থক হয়নি।
ব্রাজিলের মাঝমাঠের দুর্বলতা কাটাতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে কিন্তু খুব বেশি রিসোর্স নেই। ফ্রন্ট লাইনের অবস্থাও নড়বড়ে। নাম্বার নাইন পজিশনে আমি এত দুর্বল কাউকে কখনো ব্রাজিল দলে দেখিনি। দুর্ভাগ্য যে ইগোর থিয়াগোকে নাম্বার নাইন পজিশনে ব্রাজিলকে খেলাতে হয়েছে।
থিয়াগো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে ৩৮ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন। তাই তাকে এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ সে যে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছে ভিনিসিয়ুসের অ্যাসিস্টে, তা ছিল অবিশ্বাস্য। গোলটা করতে পারলে ম্যাচের চেহারাই বদলে যেত। এর বাইরে তাকে আর খুঁজে পাইনি। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে রাফিনিয়াকেও শতভাগ মনোযোগী মনে হয়নি। একজন ওয়াইড মিডফিল্ডারের যেই দায়িত্বগুলো থাকে, তার কিছুই করতে দেখিনি তাকে। এক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটা গোল করেছেন সম্পূর্ণ ইনডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স দিয়ে। একক প্রচেষ্টায় হয়তো কখনো কখনো আপনি ম্যাচও জিতবেন। তবে ফুটবল একটা সংঘবদ্ধ খেলা।
ব্রাজিলের সমস্যা উত্তরণে আনচেলত্তির দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি সমস্যার সমাধান কী করে করবেন, কী কী ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন করবেন এবং কীভাবে খেলোয়াড়দের তিনি ব্যবহার করবেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছি।




