পারেদেসে ‘মাস্টারপ্ল্যান’' স্কালোনির

সংগৃহীত ছবি
এই আসরে শুরুর একাদশে ছিলেন মাত্র এক ম্যাচে। সেটাও আবার একাদশে ৯ পরিবর্তনের কারণে! বদলি হিসেবে নেমেছেন দুই ম্যাচে। সেই লেয়ান্দ্রো পারেদেসই এবার মিসরের বিপক্ষে লিওনেল স্কালোনির তুরুপের তাস। শেষ ১৬ এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও জমাট করতে পারেদেসের ওপরেই বড় ভরসা রাখতে যাচ্ছেন কোচ।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাঠেই নামেননি পারেদেশ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন মাত্র ৯ মিনিট। সুযোগ আসে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। সেখানে একাদশে বড় পরিবর্তনের জন্য দলে ঢোকেন, খেলেন পুরো ৯০ মিনিট। মাঝমাঠে তার অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শেষ ৩২ এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে নেমেছেন বদলি হয়ে। ৩৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। তার পাসিং ছিল দুর্দান্ত। ৯৫ শতাংশ পাসে আবারও মাঝমাঠে নিজের ছন্দের জানান দিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুই দুশ্চিন্তার নাম মোহাম্মদ সালাহ আর ওমর মারমুশ। স্কালোনি আভাস দিয়েছেন, কেপ ভার্দেকে হারানো আগের একাদশে এবার তিনটি পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসবে সেই মাঝমাঠে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় মাঝমাঠের কেন্দ্রে ম্যাচ শুরু করবেন পারেদেস।
বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার শুরুর একাদশে আসায়, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার হয়ত বামে সরে যাবেন। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে পারেদেসের জায়গায় কেন আলিস্তারকে খেলানো হয়েছিল সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্কালোনি, ‘আলিস্তারকে মাঝে খেলানোর কারণ ছিল লেয়ান্দ্রোর চোট। এছাড়া অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। কাতার বিশ্বকাপের পর লেয়ান্দ্রো যখনই ১০০ ভাগ ফিট ছিল, সে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছে। বোকার হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচের পর সে চোট নিয়ে ফিরেছিল এবং দলে থাকার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছে। আমাদের তাই মনে হয়েছে আলেক্সিসই তার সেরা বিকল্প ছিল, কারণ এনজো (ফের্নান্দেস) তার ক্লাবের হয়ে একটু ওপরের দিকে খেলে এবং বক্সে ঢুকে পড়ে। তাই লেয়ান্দ্রো যখন খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না, তখন আমরা আলেক্সিসকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিই।‘
স্কালোনি মনে করিয়ে দেন, পারেদেস মাঠে নেমে কী করতে পারেন, ‘লেয়ান্দ্রো আমাদের ভারসাম্য এনে দেয় এবং এটিই তার স্বাভাবিক পজিশন। শেষ পর্যন্ত আলেক্সিসকে যখন আমরা সেখানে খেলতে বলেছিলাম, সে দারুণ করেছিল কারণ লেয়ান্দ্রো চোটে ছিল। যদি সে ফিট থাকে, তবে সে দলে কী দিতে পারে তা আমরা সবাই জানি এবং আমরা আশা করি অনুশীলনে সে যা দেখিয়েছে, ম্যাচেও তার প্রতিফলন ঘটাবে। আমার কাছে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন।‘
পারেদেসকে শুরুতেই নামিয়ে মাঝমাঠের দখল আরও পাকাপোক্ত করতে চান স্কালোনি, ‘খেলার ওপর আধিপত্য বিস্তার করার পাশাপাশি আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, প্রতিপক্ষ যেন কাউন্টার-অ্যাটাকে আমাদের ক্ষতি করতে না পারে। আমাদের বল দখলে রেখে রক্ষণ সামলাতে হবে, পাসিংয়ের ক্ষেত্রে আরও নিখুঁত হতে হবে এবং তাড়াহুড়ো করে আক্রমণ করা যাবে না। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আমরা দেখেছি যে, আমরা বল কেড়ে নেওয়ার পরপরই খুব দ্রুত আক্রমণে উঠে যাচ্ছিলাম, টানা ৫-৬টি পাসও খেলছিলাম না।‘




