১২ বছরে স্পেনের ১৭ শিরোপা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০১৪ বিশ্বকাপ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ব্রাজিলে পা রাখল স্পেন দল। টানা দুই ইউরো ও মাঝে বিশ্বকাপজয়ী এই দলটার ওপর প্রত্যাশার কতই না চাপ। সেই চাপেই পিষ্ট হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল তারা। সেই বিদায়টাই যেন ঘুরিয়ে দিয়েছিল স্প্যানিশ ফুটবলের মোড়। ঠিক এক যুগ পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এই ১২ বছরে পুরুষ, নারী জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দল মিলে জিতেছে ২৩টি শিরোপা।
২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব, ২০১৮ সালে শেষ ১৬। বিশ্বকাপ থেকে এমন অপ্রত্যাশিত ছিটকে যাওয়ার ধাক্কা সামলে উঠে বিশ্বমঞ্চে স্পেনের পুরুষ দলের প্রত্যাবর্তন ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ২০২৩ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের মাধ্যমে শিরোপার খরা কাটায় তারা।
এরপর সাফল্য আসে ২০২৪ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোতে। লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণ তুর্কিতে ভর করে ১২ বছর পর ইউরোপ সেরা হয় স্পেন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।
স্প্যানিশ ফুটবলের রোমাঞ্চকর পরিবর্তন এসেছে নারী দলেও। ২০২৩ ফিফা নারী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় দেশটির নারী ফুটবল দল।
বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই তারা জেতে উয়েফা নারী নেশনস লিগও। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে একসঙ্গে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগের বিশ্বকাপই নিজেদের কাছে রেখে দিল স্পেন।
স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারখানা তাদের বয়সভিত্তিক দল। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের অলিম্পিক আধিপত্য পুনরুদ্ধার করে স্পেন। এ ছাড়া উয়েফা অনূর্ধ্ব-২১ (২০১৯), অনূর্ধ্ব-১৭ (২০১৭) এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতেও (২০১৫, ২০১৯, ২০২৪, ২০২৬) শিরোপা জেতে স্পেনের যুবারা।
বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলেও স্পেনের আধিপত্য অবিশ্বাস্য। ২০২২ সালে তারা জিতেছে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১৮ সালেও অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। একই সঙ্গে উয়েফা অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড টানা পাঁচটি শিরোপা এবং অনূর্ধ্ব-১৭ ক্যাটাগরিতে আরও তিনটি ইউরোপীয় শিরোপা নিজেদের ঝুলিতে তোলে স্পেনের মেয়েরা।
ইউরো থেকে বিশ্বকাপ, নেশনস লিগ থেকে বয়সভিত্তিক দল; ইউরোপ ও বিশ্বমঞ্চে স্পেনের গত এক যুগের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে স্পেনের জাতীয় দলের বড় তারকারা উঠে এসেছেন সেই বয়সভিত্তিক দল থেকেই। ধারাবাহিক সাফল্য দলকে সব বিভাগেই এনে দিয়েছে হারানো সেই গৌরব।
বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে এখন লাল পতাকার একচ্ছত্র রাজত্ব। আর সেই রাজত্বের বার্তাটাও স্পষ্ট। টুর্নামেন্ট যেটাই হোক, ফুটবলের শেষ হাসিটা হাসবে কিন্তু স্পেনই!




