মন্ত্রমুগ্ধ সতীর্থ প্রতিপক্ষ সবাই

সংগৃহীত ছবি
শিরোপার অভিশাপ উড়ে গেল লিওনেল মেসির জাদুতে। বিশ্বকাপ জেতার পরের আসরে অর্থাৎ বিশ্বজয়ীর মুকুট মাথায় আর্জেন্টিনা এর আগে যে দুবার খেলতে নেমেছে, দুবারই প্রথম ম্যাচে তাদের পেতে হয়েছে হারের লজ্জা। ১৯৮২-তে বেলজিয়াম, ১৯৯০-এ ক্যামেরুন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাই প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার চেয়ে বড় ভয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল শিরোপার অভিশাপ। কিন্তু মেসির বাঁ পায়ের জাদুতে উধাও হয়ে গেছে সব ভয় আর আশঙ্কা। তার প্রথম হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩-০ গোলে।
খেলা শেষে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ মেনে নিয়েছেন, মেসি প্রতিপক্ষে থাকলে জেতা যায় না, ‘মেসির মান অন্য সবার চেয়ে আলাদা। আমরা অন্য যেকোনো ফুটবলারকে নিয়ে কথা বলছি না। সে দিনের পর দিন অসাধারণভাবে খেলে যাচ্ছে।’ ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সময় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুবার মেসির পিএসজির বিপক্ষে খেলেছেন রিয়াদ মাহরেজ, জিতেছেন একবার আর হেরেছেন একবার। ২০২১ সালের সেই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন মাহরেজ, আলজেরিয়ার হয়ে মেসির বিপক্ষে ম্যাচটায় তার কণ্ঠে প্রতিপক্ষের জন্য শ্রদ্ধার কমতি নেই, ‘ওদের মেসি আছে, এটিই সবচেয়ে বড় পার্থক্য।’
প্রতিপক্ষই যেভাবে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে মেসিকে, সেখানে সতীর্থদের মেসি-বন্দনা তো থামছেই না। কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচের পর বলেছেন, ‘মেসি চিরকালের বিশ্বসেরা, তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা কঠিন হবে। মেসিকে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। ২০ বছর ধরে সে আমাদের এমন সব অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখিয়ে অভ্যস্ত করে তুলেছে, যা ফুটবলপ্রেমী প্রত্যেককে অনুপ্রাণিত করে। আমরা এখন একটা করে ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। দলের সবাই খুব খুশি; ম্যাচে আমরা অনেক খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, পরের ম্যাচও আমরা জিততে পারব, যাতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে দলের সবাইকে খেলানো সম্ভব হয়।’ মেসির সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার তো বলেই দিয়েছেন, তারা সবাই মেসির জন্যই খেলেন, ‘লিওকে ছাড়া এই দল আরও ভালো খেলবে— এমনটা যদি কেউ ভেবে থাকেন, তাহলে আজ এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সে-ই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমাদের এমন একটা দল গড়ে তুলতে হবে, যার কেন্দ্রে থাকবে মেসি, যাতে মাঠে সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বর্তমানে আমরা ঠিক সেটিই করছি এবং সেও দারুণ পারফর্ম করছে। সে এখন বেশ আনন্দে আছে এবং নিয়মিত গোল পাচ্ছে।’ এনসো ফের্নান্দেস মনে করেন, সময়কেও থামিয়ে দিয়েছেন মেসি, ‘মনে হয় সময় যেন কখনোই তাকে ছুঁতে পারে না। সে দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছে। সে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।’
বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকের পর মেসির চোখে দেখা গেছে অশ্রু। তা কি আনন্দে নাকি বিষাদে? জানতে চাইলে মেসিই খোলাসা করলেন, ‘আমার এই কান্নার সঙ্গে খেলার কোনো সম্পর্ক ছিল না। গত কয়েক দিন আমার খুব কঠিন কেটেছে। আমি পুরো প্রতিনিধিদল (ডেলিগেশন) এবং আমার সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ, বরাবরের মতোই তারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং এই কঠিন সময়টা পার করার জন্য আমাকে অনেক মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।’
হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন মেসি। এভাবে খেললে ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে নতুন যে উচ্চতায় রেকর্ডকে তিনি নিয়ে যেতে পারেন, তা হয়তো অক্ষয় হয়ে থাকবে। মেসির কাছে রেকর্ড ছোঁয়াটা কোনো অর্থ বহন করে না, নিজেই তা বললেন, ‘দিনশেষে এটি শুধুই একটি পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়। তাদের সঙ্গে লড়াই করতে পেরে আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত হলেও আসলে এই রেকর্ডের কোনো বাড়তি গুরুত্ব নেই। আমার চোখে রোনালদো (ব্রাজিলের) ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার, অথচ তিনি এই তালিকার শীর্ষে নেই। তাই আমার কাছে এটি সাধারণ একটা পরিসংখ্যান মাত্র।’




