প্রীতি ম্যাচে মারামারি করে বিশ্বকাপে অনিশ্চিত পর্তুগিজ তারকা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র চার দিন। ঠিক এই মুহূর্তে মারাত্মক ভুল করে বসলেন পর্তুগালের অন্যতম প্রধান তারকা রাফায়েল লেয়াও। চিলির বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে হাত তুলে লাল কার্ড দেখেছেন এসি মিলানের এই ফরোয়ার্ড। প্রীতি ম্যাচ হলেও, মাঠের ভেতর এমন ‘সহিংস আচরণের’ কারণে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়!
গতকাল শনিবার পর্তুগাল বনাম চিলির মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটিতে দুপক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্কোরলাইন যখন ০-০, তখন রেফারি লেয়াওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন। চিলির ডিফেন্ডার ইভান রোমানও একই অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত পর্তুগালের ফুল-ব্যাক জোয়াও কানসেলো এবং চিলির রাইট-ব্যাক ফেলিপে ফান্দেজের মধ্যকার একটি সাধারণ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে কানসেলোকে পরাস্ত করে বল ক্লিয়ার করেন চিলির ডিফেন্ডার। কিন্তু কানসেলোর মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় একটু বেশি জোর দিয়ে তার ওপর চড়াও হয়েছেন। কানসেলো এর প্রতিবাদ জানালে মাঠে উত্তেজনা ছড়ায়।
ঠিক তখনই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা রাফায়েল লেয়াও এবং চিলির ইভান রোমান ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে বুক দিয়ে একে অপরকে ধাক্কা দিলেও হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে লেয়াও আচমকা চিলির ডিফেন্ডারের মুখে চড় মেরে বসেন! মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে যান। ইতালিয়ান রেফারি লুকা জুফারলি কোনো রকম দ্বিধা না রেখে লেয়াও এবং রোমান- দুজনকেই লাল কার্ড দেখান। পর্তুগিজ মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রেফারির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তর্ক করেও লেয়াওয়ের এই শাস্তি এড়াতে পারেননি। মাঠ ছাড়ার সময় লেয়াওয়ের মুখে এক চিলতে ঔদ্ধত্যের হাসি দেখা গেলেও এর পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা হয়তো তিনি তখন টের পাননি। সাধারণত প্রীতি ম্যাচে লাল কার্ড দেখলে তার কার্যকারিতা পরবর্তী প্রীতি ম্যাচগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন এই সপ্তাহের শুরুতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখা বায়ার্ন মিউনিখের অস্ট্রিয়ান তারকা কনরাড লাইমারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।
কিন্তু লেয়াওয়ের অপরাধটি সাধারণ ফাউল নয়, এটি সরাসরি ‘সহিংস আচরণ’। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় প্রীতি ম্যাচেও যদি সহিংস আচরণ করেন, তবে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি চাইলে সেই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকাপের মূল পর্বেও কার্যকর করতে পারে। যদি ফিফা কঠোর অবস্থান নেয়, তবে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলোয় মাঠের বাইরে বসে থাকতে হবে লেয়াওকে।
মে মাসের শেষের দিকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সহিংস আচরণের জন্য লাল কার্ড পেয়েছিলেন কুরাসাওয়ের স্ট্রাইকার জার্গেন লোকাদিয়া। প্রথমে তার ১৪ জুনের জার্মানি ম্যাচ মিস করার শঙ্কা জাগলেও, ফিফা শেষ পর্যন্ত তাকে শুধু এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। পর্তুগাল শিবির আশা করছে লেয়াও হয়তো এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাবেন। ফলে আগামী বুধবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি মিস করলেও ১৭ জুন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন। ‘গ্রুপ এফ’-এ পর্তুগালের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
বিশ্বকাপের এই নাটকের মধ্যেই লেয়াওয়ের ক্লাব ক্যারিয়ার নিয়েও বড় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মিলানে দীর্ঘ সাত বছর কাটানোর পর সান সিরো ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পর্তুগিজ গণমাধ্যম ‘স্পোর্ট টিভি’-কে লেয়াও বলেছেন, ‘মিলানের হয়ে ইতিহাস গড়তে পেরে আমি গর্বিত, তবে আমি এখন আমার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।’







