আর ৪ দিন
মেসি-রোনালদোসহ একঝাঁক কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক এক বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষায় বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ এবং উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে মঞ্চ প্রস্তুত। শতবর্ষ ছুঁইছুঁই বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারের আসরটি হতে যাচ্ছে জাঁকজমকপূর্ণ এক মহোৎসব। তবে এই বিশাল আনন্দযজ্ঞের আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস।
বিগত দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা একঝাঁক কিংবদন্তির জন্য এটাই হতে যাচ্ছে শেষের শুরু। ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের মতো ফুটবল মহীরুহদের শেষ আসর। কেউ হয়তো বিশ্বজয়ের ট্রফি উঁচিয়ে বিদায় নেবেন, কেউ হয়তো ভাঙা হৃদয় নিয়ে মাঠ ছাড়বেন। এবার দেখে নেওয়া যাক, উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে কারা শেষবার নামতে যাচ্ছেন।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
এ মাসেই ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ফুটবল ইতিহাসের সেরার বিতর্কটা একরকম শেষই করে দিয়েছেন এই খুদে জাদুকর। এরপর ইউরোপের পাট চুকিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। তবে কাতার বিশ্বকাপের পর বুটজোড়া তুলে রাখার ইঙ্গিত দিলেও তিনি রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন। উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমে মেসির পায়ের জাদু শেষবারের মতো দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
বয়স ৪১! এই বয়সে ফুটবলাররা যেখানে বুটজোড়া তুলে রেখে ধারাভাষ্য কক্ষে বসেন, সেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে গোলবন্যা ছুটিয়ে সিআরসেভেন প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। তবে মেসির মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি এখনো ছোঁয়া হয়নি তার। এমনকি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও কোনো গোল নেই পর্তুগিজ যুবরাজের। রাফায়েল লেয়াও, গনসালো রামোসের মতো একঝাঁক তরুণকে নিয়ে গড়া পর্তুগাল দল এবার কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে রোনালদোকে কেন্দ্র করেই তাদের বিশ্বজয়ের ছক কষছে। মেসির মতো ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া রোনালদোরও এটিই শেষ সুযোগ।
নেইমার (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রাটা ছিল সিনেমার মতো নাটকীয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গুরুতর চোটের কারণে তিনি জাতীয় দলের বাইরে। ক্লাবের হয়েও খুব কম সময়ই মাঠে থেকেছেন। কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেইমারকে একরকম ভুলেই গিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলের অন্য ফরোয়ার্ডদের চোটের কারণে নেইমারকে ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডেকে একপ্রকার লাইফলাইন দিয়েছেন আনচেলত্তি। অবশ্য স্কোয়াড ঘোষণার পরও চোট নেইমারের পিছু ছাড়েনি। ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের শরীর যেভাবে চোটের আঘাতে ভেঙে পড়ছে, তাতে ২০৩০ বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা অবাস্তব। হেক্সা মিশনের এই শেষ সুযোগটি নেইমার কীভাবে কাজে লাগান, সেটাই দেখার বিষয়।
বিশ্বকাপ জিতবেন রোনালদো
০২ জুন ২০২৬
মোহাম্মদ সালাহ (মিশর): মিশরের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ গত কয়েক বছর ধরে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ফারাওদের। লিভারপুলের এই তারকার ২০১৮ বিশ্বকাপটি কেটেছিল চোটের হতাশায়। অ্যানফিল্ডের অধ্যায় চুকিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর গুঞ্জনের মাঝে সালাহর জন্যও এটিই বিশ্বমঞ্চে নিজের উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার শেষ সুযোগ।
লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া)
৪০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ড জাদুকর ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় করেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে এসি মিলানে যোগ দেওয়া মদরিচ নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। ক্রোয়াটদের হয়ে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এই তারকা।
ম্যানুয়েল নয়্যার (জার্মানি)
ইউরো ২০২৪-এর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু টের স্টেগেনের চোট আর ওলিভার বাউম্যানের ফর্মহীনতার কারণে জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান এই ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তিকে অবসর ভেঙে ফিরিয়ে এনেছেন। নাগেলসমান নিশ্চিত করেছেন, উত্তর আমেরিকায় নয়্যারই হবেন ডাই মানশাফটদের ১ নম্বর গোলরক্ষক।
এই মেগা টুর্নামেন্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন আরও বেশ কয়েকজন চেনা তারকা। তাদের মধ্যে আছেন মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়া, যিনি মেসি-রোনালদোর সাথে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। এছাড়া বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইনা, নেদারল্যান্ডসের ভার্জিল ফন ডাইক, কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস এমনকী ইংল্যান্ডের মহাতারকা ৩২ বছর বয়সী হ্যারি কেইনেরও এটা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।







