শেষ আটে সেই ইউরোপের দাপট

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপের বাইরে হওয়া বিশ্বকাপে মাত্র দুবার শিরোপা জিতেছে ইউরোপের কোনো দেশ—২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পেন আর ২০১৪ সালে ব্রাজিলে জিতেছিল জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও কি দেখা যাবে ইউরোপের দাপট? কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের ছয়টিই কিন্তু ইউরোপের— বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড। বাকি দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার প্রতিনিধি মরক্কো। ১৯৯৪ সালের পর ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে শেষ আটে এত বেশি ইউরোপীয় দল আর দেখা যায়নি।
শুরুটা ছিল ধীর, শেষটা দুর্দান্ত
বিশ্বকাপের শুরুতে অবশ্য ইউরোপীয় দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথম গ্রুপ ম্যাচে অংশ নেওয়া ১০টি ইউরোপীয় দলের সাতটিই জয়ের দেখা পায়নি। উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমকে অনেকেই দায়ী করেছিলেন এজন্য। ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে উষ্ণ অঞ্চলে ক্যাম্প করেছিল। কিন্তু ব্যর্থতার জন্য আবহাওয়াকে অজুহাত বানাতে চাননি কোচরা। বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়ার ভাষায়, ‘১০ ডিগ্রি হোক কিংবা ৩০ ডিগ্রি, আমাদের আরও ভালো খেলতে হতো।’ সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিনও দোষ দিয়েছেন দলের সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতাকে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় চিত্র। গ্রুপ পর্ব শেষে ইউরোপীয় দলগুলো অ-ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১৭টি জয়, ১২টি ড্র এবং মাত্র সাতটি হার নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়।
নকআউটে মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষায়ও সফল
শুধু ফল নয়, কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর বেলায়ও ইউরোপীয় দলগুলো ছিল প্রশংসার দাবিদার।
ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোতে খেলতে হয়েছে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। উচ্চতা, গরম এবং স্বাগতিক সমর্থকদের তীব্র চাপ— সবকিছু সামলেও জয় তুলে নেয় থ্রি লায়ন্স। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি মনে করেন, এই জয় দলটির আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বকাপ জয়ের বিশ্বাসও তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স প্যারাগুয়ের কঠিন ও শারীরিক ফুটবল সামলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের চাপ উপেক্ষা করে বেলজিয়ামও নিশ্চিত করেছে শেষ আটের টিকিট। এবার তাদের সামনে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
অনেকে মনে করেন, শেষ আটে এত ইউরোপীয় দল থাকাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ১৬টি স্থান।
চমক নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড
এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের সবচেয়ে বড় চমকের নাম নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে তারা। আর্লিং হলান্ড ৭ গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার। আরেক বিস্ময়ের নাম সুইজারল্যান্ড। শেষ ষোলোয় কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইসরা। এবার তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ— বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।




