স্কালোনির নামকরণ
গনজালেস ‘ঘোড়া’ লাউতারো ‘ষাঁড়’ আলভারেস ‘মাকড়সা’

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানের এক মহাকাব্যিক জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই রোমাঞ্চকর রাতের পর মাঠের বাইরের এক মজার ঘটনা সামনে এসেছে। ম্যাচ শেষে শিষ্য নিকোলাস গনজালেসের ক্লান্তিহীন দৌড় আর শক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে তাকে ‘কাবায়ো’ (স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ ঘোড়া) বলে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
কোচের দেওয়া এই নতুন উপাধি নিয়ে খোদ গনজালেসও মেতেছেন তুমুল রসিকতায়। মিসরকে হারানোর পর ‘এএফএ স্টুডিও’র লাইভ স্ট্রিমিংয়ে হাজির হয়ে কোচের দেওয়া এই নতুন উপাধি নিয়ে হাসিতে ভেঙে পড়েন নিকো গনজালেস। ম্যাচটিতে ৬৬ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে পুরো ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছিলেন এই উইঙ্গার।
উপাধিটি নিয়ে মজা করে গনজালেস বলেন, ‘কোচ তো এই কথা বলে আমাকে মেরেই ফেলল!’ তবে আড়ালে যে সতীর্থরা তাকে এই নামেই ডাকেন, সেই গোপন তথ্যও ফাঁস করলেন তিনি, ‘আসলে দলের ভেতর সতীর্থদের কথা শুনলে দেখবেন ওরাও আমাকে ‘কাবায়ো’ (ঘোড়া) বা ‘কাবিতা’ (ছোট ঘোড়া) বলে ডাকে। আমার অবশ্য ‘কাবিতা’ নামটাই শুনতে বেশি ভালো লাগে, একটু মিষ্টি শোনায়। কিন্তু কোচ যেভাবে মিডিয়ার সামনে বললেন, আমি তো অবাক!’
দলে লাউতারো মার্তিনেসের নাম ‘এল তোরো’ (ষাঁড়) আর হুলিয়ান আলভারেসের নাম ‘লা আরানিয়া’ (মাকড়সা)। এবার নিজের নাম ‘ঘোড়া’ হওয়ায় আর্জেন্টিনার বিখ্যাত চিড়িয়াখানা ‘তেমাইকেন’-এর প্রসঙ্গ টেনে গনজালেস রসিকতা করে বলেন, ‘আমাদের দলটা তো এখন আস্ত একটা চিড়িয়াখানা হয়ে যাচ্ছে!’
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর দলের সাইড বেঞ্চের শক্তি নিয়ে কথা বলার সময় স্কালোনি এই মন্তব্য করেছিলেন। অতিরিক্ত বিনয় দেখানোর পক্ষপাতী নন জানিয়ে আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড বলেন, ‘আপনার বেঞ্চে যদি লাউতারো মার্তিনেসের মতো খেলোয়াড় থাকে, কিংবা নিকো গনজালেসের মতো ঘোড়া থাকে, যে মাঠে ঘোড়ার মতো দৌড়াতে পারে এবং বক্সে পৌঁছে যায়, তখন কোচের কাজটা সহজ হয়ে যায়। আপনি জাদুকর হতে পারেন, তবে আসল কথা হলো আপনার দলে এমন মানের খেলোয়াড় থাকতে হবে।’
মজা করার পাশাপাশি ম্যাচের সেই চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তের অনুভূতিও শেয়ার করেছেন গনজালেস। মিসর যখন ২-০ গোলে এগিয়ে, তখন সাইড বেঞ্চে বসে থাকা গনজালেসের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আমি ভাবছিলাম, এবার বোধহয় ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞেস করছিলাম, কোন চুলোয় যাব এখন? আমি ক্যারিয়ারে এমন ম্যাচ কখনো দেখিনি, আর হয়তো দেখবও না। ম্যাচটা জেতার পর মনে হচ্ছিল আমরা যেন আবার বিশ্বকাপটাই জিতে ফেলেছি। এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত ছিল।’
-টিওআইসি স্পোর্টস অবলম্বনে






