ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল

মরিসটাউনের রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালি আবহাওয়ার মতোই। বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ব্রাজিল দলও মাঠে তাদের ভারসাম্যের খোঁজে লড়াই করছে। মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর দলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে শান্তি, স্বচ্ছতা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ব্রাজিল। খেলোয়াড়দের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, এক দিনের ছুটি, অতিথিদের উপস্থিতিতে একটি ক্লোজ-ডোর অনুশীলন এবং সপ্তাহ জুড়ে নেইমারের দলে ফেরার প্রতীক্ষা— যিনি অবশেষে যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। যদিও হাইতির বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা নেই।
কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি হয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময়েও দলের একটা কাঠামো তৈরি হয়নি। হাইতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই জানালেন দানিলো, ‘আপনার যখন একটি গোছানো ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠলেও আপনি সেই পরিকল্পনার ওপর ভরসা রাখতে পারেন। আমরা তা তৈরি করতে পারিনি, এটি একদম পরিষ্কার এবং বাস্তব সত্য। একটি দল হিসেবে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার যে পরিপক্বতা রয়েছে, তা আমাদের নেই।’
তাই বলে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না দানিলো। বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তিনি, ‘এর অর্থ এই নয় যে আমরা ভালো করতে পারব না। তবে আমাদের ভিন্ন কৌশল বেছে নিতে হবে। হয়তো রক্ষণভাগে আরও নিচে নেমে ডিফেন্স করা, বড্ড বেশি হাই-প্রেস না করা এবং প্রতিপক্ষের বল পজেশন ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া। এটাই পরিপক্বতা। আর যখনই আমরা একটু ফাঁকা জায়গা পাব, আমাদের গোল করার জন্য ভিনি, রাফিনিয়া, রায়ান বা এনদ্রিকের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছে।’
দলের অন্যতম এই সিনিয়র খেলোয়াড় চায়নিজ ব্যাম্বোর উদাহরণ টেনে বলেছেন, এখানে চায়নিজ ব্যাম্বো বা চীনা বাঁশের একটি গল্প আছে। আপনি বীজ বপন করার পর চার থেকে পাঁচ বছর ধরে তাতে পানি দিয়ে যাবেন। এটি মাটির নিচে প্রথমে তার শিকড় মজবুত করে এবং এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি অনেক মিটার লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে। আমি বিশ্বাস করি, এই বিশ্বকাপে আমাদের যাত্রাটি সুন্দর হবে। তবে এই বর্তমান কাঠামোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে; আপনাকে প্রক্রিয়াগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা সবসময় সহজ হয় না।’
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর একই একাদশ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ খেলাননি। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের জন্যও আনচেলত্তি শুরুর একাদশ গোপন রেখেছেন। পুরো সপ্তাহ ধরে সব পজিশনেই খেলোয়াড়দের অদলবদল করে পরখ করে দেখছেন। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে দানিলো বললেন, ‘গত ম্যাচে এটি নিয়ে বড্ড বেশি জলঘোলা করা হয়েছিল। আমাদের শুক্রবারের ম্যাচের ৮০ শতাংশ দল চূড়ান্ত করা আছে, আর বাকি তিন বা চারটি পজিশন বিভিন্ন কারণে এখনো নিশ্চিত নয়। কোচদের মনে অনেক কিছু চলে আসে, মাঝে মাঝে সেগুলোর যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না। এগুলো স্রেফ সিদ্ধান্ত এবং পছন্দ। আমি খেলার আশা রাখছি।’
বড় প্রশ্ন, নেইমার ফিরবেন কবে? এ নিয়ে দানিলো বলেছেন, ‘নেইমার মাঠে থাকা মানেই সে প্রতিপক্ষের দুই বা তিনজন খেলোয়াড়কে নিজের দিকে টেনে নেবে এবং আমাদের দলের অন্য কোনো খেলোয়াড় ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাবে। সে আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে। শুধু মাঠে তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’




