গোল, অ্যাসিস্ট না করেও গোল্ডেন বল রোদ্রির

সংগৃহীত ছবি
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরেও যদি বলা হতো, গোল্ডেন বল জিতবেন স্পেনের রোদ্রি, তাহলে হয়তো হেসেই উড়িয়ে দিতেন বেশিরভাগ দর্শক! সবাইকে খানিকটা অবাক করে সেই রোদ্রির হাতেই উঠল এই টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের খেতাব। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে কোনো গোল, অ্যাসিস্ট না করে কীভাবে রোদ্রি জিতলেন গোল্ডেন বল?
৭ ম্যাচ ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট; গোল্ডেন বলের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ফাইনাল হেরে গেলেও তার হাতেই রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো উঠবে এই পুরষ্কার, অনেকেরই ধারণা ছিল এমন।
মেসি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে কোনো জাদু দেখাতে পারেননি। স্পেনের মাঝমাঠে দাপট দেখানোর মূল নায়ক রোদ্রিই জিতলেন গোল্ডেন বল। মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং রক্ষণে সহায়তা— তিন মিলিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের প্রাণভোমরা ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি এই তারকা ফুটবলার।
প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে দ্রুত বলের দখল ফিরিয়ে এনে আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন রোদ্রি।
আট ম্যাচে রদ্রি ৮১২টির মধ্যে ৭৫৬ টিই সফল পাস দিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রেকর্ড (৯৩.২ শতাংশ)। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি হাই-ইনটেনসিটি রান এবং মাঠে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করার কৃতিত্বও তার ঝুলিতে।
শুধু পাসিং নয়, রক্ষণেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর। পুরো বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। দলের এই দুর্দান্ত রক্ষণের পেছনেও ছিল রোদ্রির ভূমিকা। ফিফার পারফরম্যান্স ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, কাউন্টার-প্রেসিংয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বল পুনরুদ্ধার করেছেন রোদ্রি। বল হারানোর পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল নিজেদের দখলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা। নীরব কিন্তু অসাধারণ অবদানই স্পেনের মাঝমাঠকে করেছে অপ্রতিরোধ্য।
ফাইনালেও রোদ্রি ছিলেন অবিশ্বাস্য ফর্মে। স্পেনের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনিই। ম্যাচে তিনি পাস দেন ১০৫টি, যার মধ্যে ১০১টিই সফল! এ ছাড়া ৯টি লং পাসের ৮টিই সফলতার মুখ দেখেছে।
রোদ্রির দারুণ নিয়ন্ত্রণের কারণে পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং দ্রুত বলের দখল ফিরিয়ে আনার কাজটিই নিখুঁতভাবে করেছেন তিনি।
‘গোল্ডেন বল’ সাধারণত এমন ফুটবলারের হাতেই ওঠে, যিনি গোল বা অ্যাসিস্টে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখেন। কিন্তু এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বকাপের জুরি বোর্ড। গোলের চেয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রোদ্রির প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়েই তাকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়েছে।
গোল্ডেন বল ও বিশ্বকাপ জিতে রোদ্রি নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন, ‘এখনো আমরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না। মনে হচ্ছে যেন মেঘের ওপর ভাসছি। সত্যি বলতে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’




