গ্রুপ সেরা হলেই ব্রাজিল এড়াবে ভ্রমণ ঝক্কি

ছবি: রয়টার্স
গ্রুপ সেরার অনেক সুবিধা। সবচেয়ে বড় সুবিধা ৩২ দলের নকআউট পর্বে মিলবে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। হাইতিকে ৩-১ গোলে হারানো ব্রাজিলের জন্য আছে আরেক সুবিধাও। গ্রুপ সেরা হলে তারা এড়াবে ভ্রমনজনিত ঝক্কি-ঝামেলা। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর শনিবার হাইতিকে হারিয়ে সি গ্রুপের শীর্ষে আছে সেলেসাওরা। ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ। এই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করছে তাদের নক-আউট ভাগ্য। গ্রুপ সেরা হলে এটা নিশ্চিত তাদের খেলা পড়বে যুক্তরাষ্ট্রতেই। সেক্ষেত্রে এড়ানো যাবে মেক্সিকো ভ্রমণের ঝক্কি। বাক্স-পেটরা গুটিয়ে বর্তমান বেইজ ক্যাম্পও ছাড়তে হবে না।
সি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন খেলবে এফ গ্রুপের রানার্স-আপ দলের সঙ্গে। ওই গ্রুপে লড়াই করছে নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। গ্রপ রানার্স-আপ হলে খেলতে হবে এফ গ্রুপের সেরার সঙ্গে। সেক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসকে পাওয়ার সম্ভাবণা থাকবে প্রবল। ব্রাজিল নিশ্চয় চাইবে না রাউন্ড অফ ৩২-তেই কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে।
ব্রাজিলের বিপদ আরও বাড়তে পারে গ্রুপে তৃতীয় হলে। এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকলেও শেষ ম্যাচে গিয়ে পাল্টে যেতে পারে হিসেব নিকেশ। ব্রাজিল যদি স্কটিশদের কাছে হেরে যায় এবং মরক্কো যদি হাইতিকে হারিয়ে দেয়, তাহলে গ্রুপের তৃতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২ এ উঠতে হবে সেলেসাওদের। সূচি বলছে, এমনটা হলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ই এর চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। ওই গ্রুপে ফেবারিট জার্মানি। জার্মানি শীর্ষে থাকলে ও ব্রাজিল তৃতীয় হলে ২০১৪ সালের পর আবারও মুখোমুখি হবে দুই পরাশক্তি।
সি গ্রুপের সেরা দল নক-আউট পর্বের ম্যাচটি খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। নিউ জার্সির কলুম্বিয়া পার্কে বিশ্বকাপের আগে থেকেই ঘাঁটি গেড়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ সেরা হলে বিমান যোগে সহজেই সেখানে গিয়ে খেলে আসতে পারবে কালো আনচেলত্তির শীষ্যরা। বেস ক্যাম্প ছাড়তে হবে না। তবে গ্রুপের দ্বিতীয় হলে খেলতে হবে মেক্সিকোর মনতেরেতে। সেক্ষেত্রে বেস ক্যাম্পও বদলাতে হবে। আর তৃতীয় সেরা দলের একটি হয়ে দ্বিতীয় পর্বে গেলে প্রতিপক্ষ, ভেন্যু থেকে সবকিছুই অনিশ্চিত।
নড়বড়ে শুরুর পর হাইতিকে হারিয়ে এখন শক্ত অবস্থানে ব্রাজিল। যদিও স্কটিশদের হারিয়ে তাদের ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছে মরক্কো। ব্রাজিলের মতো তাদের সংগ্রহও চার পয়েন্ট। গোলের হিসেবে পিছিয়ে থাকায় এখন দুইয়ে মরক্কোর অবস্থান। অর্থাৎ শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারালেই গ্রুপ সেরা হয়ে পরের ধাপে যাওয়া নিশ্চিত নয় ব্রাজিলের। কারণ ২৫ জুন মরক্কো খেলবে এখনও পয়েন্টের খাতা না খোলা হাইতির বিপক্ষে। ব্রাজিলের চেয়ে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা মরক্কোর গ্রুপ সেরার সুযোগ থাকবে অনেক বড় ব্যবধানে জিতলে কিংবা ব্রাজিল স্কটল্যান্ডের কাছে পয়েন্ট খোয়ালে।
স্কটিশদের সঙ্গে ড্র করলেই পরের ধাপ নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। এমনকি হেরে গেলেও সম্ভাবণা থাকবে। যদি ব্রাজিল স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে এবং মরক্কো হাইতিকে হারায়, ব্রাজিল দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে যাবে, স্কটল্যান্ড তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। আর ব্রাজিল হারলে এবং মরক্কো জয় পেলে, সেলেসাওদের নেমে যেতে হবে তিনে। সেক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যত নির্ভর করবে অন্য গ্রুপের সমীকরণের ওপর।
এবারের বিশ্বকাপে আটটি সেরা তৃতীয় দল যাবে নকআউট পর্বে। অপটা অ্যানালিস্টের সুপারকম্পিউটার অবশ্য দিচ্ছে সুখবর। তাত্ত্বিক নানা গবেষণা করে তারা জানিয়েছে চার পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর ৯৯.৮১ শতাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় স্থান থেকে পরের রাউন্ডে ওঠা সুযোগ থাকবে।
দুই ম্যাচে ব্রাজিল করেছে চারটি, হজম করেছে একটি। তাতে তাদের গোল গড় +৩। মরক্কো দুই ম্যাচে দুই গোলের বিপরীতে হজম করেছে একটি। তাদের গড় +১। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের দুই ম্যাচে গোল করা আর হজমে আছে সমতা, তাই গড় তাদের শূণ্য।
স্কটিশরা পরের পর্বে যেতে হার এড়াতে চাইবে ব্রাজিলের বিপক্ষে। কারণ একটা ড্র তাদের নিয়ে যেতে পারের পরের পর্বে। তাই গোল দেওয়ার চেয়ে বেশি মনযোগ থাকবে ঘর সামলানোয়। তাতে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের গোলের কাজটা কঠিন হবে।
হাইতির ম্যাচে পেশির চোটে রাফিনিয়ার বিশ্বকাপ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন কীনা আর কোন ম্যাচ, এ নিয়ে সংশয় আছে। জোড়া গোলে কুনিয়া আর ধারাবাহিক ছন্দে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন ঠিক। তবে ইউরোপিয়ানদের রক্ষণ প্রাচির ভাঙতে আবারও জ্বলতে হবে তাদের।
আনচেলত্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ম্যাচে দেখা যাবে নেইমার জুনিয়রকে। চোট কাটিয়ে নেইমারও কতটা ক্যারিশমা দেখাতে পারেন, তা নিয়েও আছে সংশয়। তারপরও অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পেতে আর ভ্রমন ঝক্কি এড়াতে ব্রাজিল চাইবে গ্রুপ সেরা হতে।




