আনচেলত্তি
আমি জিনিয়াস নই, তবে বোকাও নই

ব্রাজিল ফুটবল দলের কোচের চেয়ারটা যেন সবসময়ই এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেলা একটু এদিক-সেদিক হলেই ধেয়ে আসে সমালোচনার তীর। চলতি বিশ্বকাপে নড়বড়ে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে এবার মুখ খুলেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
একসময়ের তারকাবহুল ব্রাজিল দল এখন অতীত। বছরখানেক আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি পেয়েছিলেন একটি ভাঙাচোরা দল। হারতে হারতে সেই দলটির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। সেখান থেকে অল্প সময়ে ব্রাজিলকে অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন আনচেলত্তি। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতার কথা আনচেলত্তি স্পষ্ট বলেছেন, বাইরের সমালোচনা তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে না।
সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা ক্ষোভ ও তাচ্ছিল্যের সুরে টেনে ৬৭ বছর বয়সী এই কোচ বলেছেন, ‘আমি ফুটবল বুঝি কি বুঝি না, তা আমি জানি না। তবে আমি ফুটবল বুঝি কি না—তা বিচার করার অধিকারও কারও নেই। এটা শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো জিনিয়াস নই। তবে এটাও শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’
আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘আমি ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ম্যাচের কৌশল সাজিয়েছি। ফুটবলকে পুরোপুরি বোঝার জন্য হয়তো এটাও যথেষ্ট নয়, তবে অভিজ্ঞতা হিসেবে মন্দ নয়! আর এই গ্রহে কেবল একজন মানুষেরই আমার চেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। তিনি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, যিনি দুই হাজারের বেশি ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন। সবার পরামর্শ আমি অবশ্যই মাথা পেতে নিই, তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থাকেন, তিনি শুধুই অ্যালেক্স ফার্গুসন।’
২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি সেলেসাওরা। এই দীর্ঘ ট্রফি খরায় সৃষ্ট পাহাড়সম চাপকে অবশ্য বোঝা হিসেবে দেখছেন না সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ বস, ‘২৪ বছর ট্রফি না পাওয়ার কারণে একটা বাড়তি চাপ তো আছেই। তবে আমার কাছে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হওয়াটা অত্যন্ত সম্মানের। আর যেহেতু এটি একটি বড় সম্মান, তাই আমি সব ধরনের সমালোচনা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।’
ফুটবল দুনিয়ায় কোচের চাকরিটা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং কেন খারাপ ফলের পর সব দায় কোচের ওপরই এসে পড়ে, সেই নির্মম সত্যও তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তার ভাষায়, ‘দলের সাফল্য সবসময় খেলোয়াড়দের, আর সব ব্যর্থতার দায় এসে পড়ে কোচের ঘাড়ে। এই কারণেই ফুটবলে কোচরাই সবচেয়ে দুর্বল পক্ষ।’
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোগা বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবল দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ খোদ দেশের সমর্থকরা। তবে আনচেলত্তির এই প্র্যাগমেটিক ফুটবলই ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বজয়ের মুকুট এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এমনকি জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ের পর ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতিও জনসমক্ষে আনচেলত্তির কিছু কৌশলী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।






