ব্রাজিলের ছন্দে নেইমার আনন্দ

৩২ মাস পর মাঠে নামবেন
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ব্রাজিল শুরুর ধাক্কাটা সামলেছে। তবে ম্যাচটা যতটা দিয়েছে, ততটাই কেড়ে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির কাছ থেকে। চোটে ছিটকে গেছেন রাফিনিয়া। তার জায়গায় কাকে খেলাবেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন ব্রাজিল কোচ।
১৯ বছর বয়সী রায়ানকেই আনচেলত্তি নামিয়েছিলেন রাফিনিয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর। বোর্নমাউথে খেলা এই রাইট উইঙ্গার খেলেছেন ৫১ মিনিট। ১৯টি পাস দেওয়ার প্রচেষ্টায় ১৭টিতে সফল হয়েছেন। তাকে দুবার ফাউল করা হয়েছে, রায়ান নিজেও দুটি ফাউল করেছেন। ম্যাচ শেষে তার রেটিং পয়েন্ট ৬.৯৯, অর্থাৎ একদম খারাপ নয় আবার অসাধারণ কিছুও নয়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আনচেলত্তি যদি তার ওপর ভরসা করে শুরুর একাদশেই রাখেন, তাহলে হয়তো ঠকবেন না। স্কটল্যান্ডের বেশিরভাগ ফুটবলারই খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে, জনাদুয়েক তো রায়ানের ক্লাব সতীর্থই!
রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি মাঠে নামিয়ে দিতে পারেন নেইমারকেও। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা যদি ফিট থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপে তাকে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের পর এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘উইংয়ে নয়, নেইমারকে খেলতে হবে মাঠের মূল কেন্দ্রে। প্রথাগত উইঙ্গার হিসেবে তাকে দেখা যাবে না, বরং সে খেলবে স্ট্রাইকার বা সেকেন্ড স্ট্রাইকার পজিশনে। হাইতির বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস আর রাফিনিয়াকেও কিন্তু এ পজিশনেই খেলানো হয়েছে।’ পজিশন যাই হোক, নেইমারের ফেরাটাই ব্রাজিলের জন্য বড় স্বস্তির। বিশ্বকাপ জিততে যে এক্স ফ্যাক্টরের দরকার, নেইমার আসলে তাই। ম্যাচের আগে পাকেতাও জানিয়ে গেছেন, নেইমারকে ফিরে পেয়ে খুশি পুরো দল। বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন— এমন ব্রাজিলের বেশ কয়েকজন তাদের মত দিয়েছেন পর্তুগিজ ভাষার গণমাধ্যমে। তাদের বেশিরভাগই মনে করেন, লুইস হেনরিক একাদশে আসতে পারেন রাফিনিয়ার জায়গায়। ‘রাফিনিয়ার পজিশনে আমার পছন্দ লুইস হেনরিক। বিশ্বকাপের মতো আসরে তার শারীরিক সক্ষমতা বেশ নজরকাড়া। ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার দারুণ ক্ষমতা আছে তার। সত্যি বলতে, রাফিনিয়ার জায়গায় এখন পর্যন্ত যারাই সুযোগ পেয়েছেন, কেউ তেমন আলো ছড়াতে পারেননি। তবে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেনরিকই হতে পারেন ব্রাজিলের সেরা বিকল্প, এমনটা মনে করেন ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার আনা থাইস মাতোস। সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার এরিক ফারিয়াও মনে করেন লুইস হেনরিকই হবে সঠিক বিকল্প— ‘রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে আমার ধারণা আনচেলত্তির ট্যাকটিক্যাল চয়েস হবে লুইস হেনরিক। ওই পজিশনের জন্য সে-ই সবচেয়ে উপযুক্ত ফুটবলার। ডানপ্রান্ত ধরে খেলতেই সে অভ্যস্ত। ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা আছে তার মাঝে। তাই আমার বাজি হেনরিকের ওপরই।’ আরেক সাংবাদিক এভারেলদো মার্কেসের মতে, উপযুক্ত বিকল্প হচ্ছে এনদ্রিক— ‘স্কটল্যান্ড ম্যাচে এনদ্রিককে পুরো ৯০ মিনিট বাজিয়ে দেখার পক্ষে আমি। কিন্তু আনচেলত্তি সম্ভবত সেই পথে হাঁটবেন না। গত কয়েক মাসে তার ট্যাকটিকসের যে ধারাবাহিকতা, তাতে আমার ধারণা লুইস হেনরিকই এই ম্যাচে সেলেসাওদের হয়ে শুরুর জায়গা করে নেবেন।’ জেনিট সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা উইঙ্গার হেনরিক এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১৬ ম্যাচ খেলে করেছেন দুই গোল, বাছাই পর্বে চিলি আর পেরুর বিপক্ষে।




