রাজকীয় সংবর্ধনা ইয়ামালদের

১৬ বছর পর রাজকুমারীরা
মিষ্টি একটা ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্তর্জালে। ২০১০ সালে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর সোনালি চুলের মিষ্টি হাসির দুই শিশু ইকার ক্যাসিয়াসের হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখে হাসছেন। ১৬ বছর পর সেই দুই শিশু পরিণত হয়েছেন আকর্ষণীয় দুই তরুণীতে। বিশ্বকাপ ট্রফি দেখে তারা হাসলেন শিশুর মতোই। রাজকুমারী লেনর ও সোফিয়া, স্পেনের রাজা ফিলিপ ও রানী লেতিসিয়ার দুই মেয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন স্পেনের ফুটবলাররা। ২০১০ সালে স্পেন প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন দুই রাজকুমারী খুবই ছোট। জোহানেসবার্গে তাদের নিয়ে যাননি রাজা-রানী। তবে নিউ ইয়র্কে মাঠে বসেই দেখেছেন দলকে জিততে, এরপর রাজবাড়িতে তাদের বরণও করলেন দুই রাজকুমারী।
দেশে পা রাখার পর প্রথমেই ফুটবলাররা চলে যান স্পেনের রাজার বাসভবন লা জারজুয়েলা প্যালেসে। সেখানে বাগানে রাজপরিবারের সদস্যরা ছবি তোলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক রোদ্রি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলে দেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের হাতে। সেখানে খেলোয়াড়দের জন্য আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন ছিল, বিমান থেকে জার্সি গায়ে নামার পর রাজভবনে সুট পরেই গিয়েছিলেন রোদ্রি-ইয়ামালরা। রাজা ফিলিপ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা অধ্যবসায়, দৃঢ়তা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা সবসময় আপনার দক্ষতা, খেলায় নিয়ন্ত্রণ ও পারদর্শিতার প্রমাণ।’ রাজা ফিলিপ স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের যাত্রাকে তুলনা করেছেন হোমারের অমর মহাকাব্য ওডিসির সঙ্গে। রাজভবনেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে রাজপরিবারের সদস্যরা ছবি তোলেন এবং স্পেনের দুই তারকাখচিত নতুন জার্সি মেলে ধরেন।
রাজ পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ফুটবলাররা চলে যান মনক্লোয়া প্রাসাদে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে। সেখানে ছিল সরকারি সংবর্ধনার আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে ছাদখোলা বাসে করে মাদ্রিদের প্রধান প্রধান রাস্তা প্রদক্ষিণ করে খেলোয়াড়রা চলে আসেন সেবোলাস প্লাজায়, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল লাখো জনতা। এই ছাদখোলা বাসে ভ্রমণের সময় ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেস মাথায় দিয়েছিলেন অদ্ভুত এক টুপি! যাতে লেখা ‘মেক স্পেন গ্রেট অ্যাগেইন’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন-এর আদলে এই বক্তব্য লেখা টুপিটা ফেরান পুরোটা যাত্রাপথেই মাথায় দিয়ে রেখেছিলেন, এমনকি সেবোলাস প্লাজায় আনন্দ উৎসবেও সেটি মাথা থেকে খোলেননি।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্বজয়ীদের বরণ করার মঞ্চে আসেন খেলোয়াড়রা। যদিও উদযাপন চলছিল সন্ধ্যা ৭টা থেকেই। সেখানে স্পেনের শীর্ষ সংগীতশিল্পী ও নাচিয়েদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজন চলেছে অনেক রাত পর্যন্ত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে। রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ আয়োজনের সূচি থাকলেও ফ্লাইটের বিলম্ব ও নানান আনুষ্ঠানিকতার পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হতে হয়েছে দেরি। মাদ্রিদের মেয়র একে একে বিশ্বজয়ীদের ডেকে আনেন মঞ্চে। জনতার উদ্দেশে রোদ্রি বলেছেন, ‘এই ছেলেরা অসাধারণ, আমি জানি না এদের সম্পর্কে আর কী বলার আছে!’ ফেরান তোরেসকে নিয়েও বলেছেন, ‘এই ছেলেটাকে নিয়ে শুধু শুধু অনেক সমালোচনা করা হয়েছে। আর আজকে সে স্পেনের হয়ে ইতিহাস গড়েছে।’ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে এ রকম ২৬ জন খেলোয়াড়কে পেয়েছি যারা বিশ্বসেরা, এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয় গায়িকা আইতানার ‘সুপারস্ট্রেলা’ গান দিয়ে, যে গানটা বিশ্বকাপ জুড়ে হয়ে উঠেছিল স্পেনের অনানুষ্ঠানিক থিম সং। বোর্হা ইগ্লেসিয়াস একটা সময় ডিজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তার ছন্দের তালে ঢেউ ওঠে মাদ্রিদের লাল জনসমুদ্রে। অনুষ্ঠান শেষ হয় দলের সবাই মিলে বিশ্বকাপটা তুলে ধরার মাধ্যমে, ঠিক যেভাবে তারা উদযাপন করেছেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে।




