কৌশলের লড়াইয়ে শেষ হাসি কার?

দুই ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতি, ভিন্ন কৌশলের ধারা, একটি আকর্ষণীয় ম্যাচের অপেক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র এবারের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে প্রথম দিনেই। গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর গুয়াদালহারায় লড়বে এশিয়া ও ইউরোপের দুই দেশ। বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল কোরিয়া। ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট ধরেই হাই প্রেসিং ফুটবলে অভ্যস্ত এশিয়ার দেশটি। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলে অভ্যস্ত হওয়ায় তাদের ফুটবলারদের বোঝাপড়া আগের চেয়ে বেশ উন্নত। বিশেষ করে তাদের ফরোয়ার্ড লাইন এখন আর শুধু কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর নয়, বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজাতেও দক্ষ হয়ে উঠছে।
র্যাংকিংয়ের ২৫তম অবস্থানে থাকা কোরিয়া নিজেদের ১২তম বিশ্বকাপে অংশ নেবে। বাছাই পর্বে অপরাজিত থেকেই মূল পর্বে পৌঁছে গেছে তারা। এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ২০০২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড তাদেরই। গত কয়েক বিশ্বকাপে সাদামাটা পারফর্ম করা কোরিয়া এবার ভালো কিছুর লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছে বিশ্বকাপে।
ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্র পরিচিত তাদের সংগঠিত ডিফেন্স এবং সেট-পিস দক্ষতার জন্য। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য অনুযায়ী শারীরিক শক্তি ও বল দখলের লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করে খেলে। দলের মিডফিল্ড সাধারণত বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে গোল করার ক্ষমতা চেক দলের একটি বড় অস্ত্র।
র্যাংকিংয়ে চেকদের অবস্থান ৪০তম। ২০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছে দেশটি। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে ডেনমার্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায় চেকরা। দীর্ঘ দুই দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে ভালো কিছুর প্রত্যাশা তাদের।
এখন পর্যন্ত তিনটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। দুই দল জিতেছে একটি করে ম্যাচ। সবশেষ তাদের দেখা হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেই ম্যাচে কোরিয়া জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের এবারই প্রথম দেখা।
কোরিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিন। টটেনহামের হয়ে খেলা এই ফুটবলার খেলতে নামছেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার মনোভাব তাকে শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, পরিণত করেছে এশিয়ান ফুটবলের বড় এক আইকনে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে সনের পায়ের জাদুর দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো কোরিয়া।
চেকদের মূল ভরসা প্যাট্রিক শিক। তার গোল করার অসাধারণ দক্ষতাই চেক প্রজাতন্ত্রকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপে। বেয়ার লেভারকুসেনের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড নজর কেড়েছেন তার বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশিংয়ে। শুধু গোল করা না, বরং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য বড় হুমকি। তাই কোরিয়ার বিপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে।
হাই প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া চাইবে দ্রুত বল দখলে নিতে। প্রতিপক্ষকে বল নিয়ে মোটেই স্বস্তিতে থাকতে দেবেন না সনরা।
অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র চাইবে ম্যাচকে ধীরগতিতে নিয়ে যেতে এবং লম্বা বলের মাধ্যমে সরাসরি আক্রমণে যেতে। মাঝমাঠের লড়াইয়ে যে জিতবে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যাবে তাদের হাতেই। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কৌশলের লড়াইয়ে কে জেতে, সেই উত্তর পাওয়া যাবে ১২ জুন সকাল ৮টায়।





