ইরানের বিশ্বকাপ বয়কটে কপাল খুলবে ইতালির?

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি ইতালি।
প্লে-অফের ফাইনালে হেরে তো আগেই বিশ্বকাপের আশা শেষ হয়ে গেছে ইতালির। যদি বলা হয়, এখনো বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা আছে আজ্জুরিদের! নিশ্চয়ই চমকে যাবেন? অদ্ভুত হলেও সত্য, ইতালির বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার ক্ষীণ সম্ভাবনা জেগেছে। কিন্তু কীভাবে? বিশ্বকাপের ৪৮ দল যেখানে চূড়ান্ত, সেখানে আবার ইতালি কেন সুযোগের অপেক্ষায়?
পুরো ব্যাপারটি আসলে নির্ভর করছে ইরানের ওপর। এশিয়া অঞ্চল থেকে এবারের বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পেয়েছে ইরান। তবে টিকিট পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবটা ভালোভাবেই পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের সম্পর্ক পৌঁছেছে তলানিতে।
ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আগে থেকেই ইরানিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিশ্বকাপ ইস্যুতে ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তাই অনায়াসেই খেলতে যাবে ইরান। কিন্তু সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত ইরানের।
ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে, মেক্সিকোয় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সরিয়ে না নিলে বিশ্বকাপে যাবে না তারা। তবে ইরানের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম।
মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাম বলেছেন, ‘ফিফা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যাচগুলো তাদের মূল ভেন্যু থেকে সরানো যাবে না। এটি লজিস্টিকসকে ভীষণ জটিল করে তুলত, তাই ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দুই মাস। ইরান যদি সত্যিই বয়কট করে, তখন কোন দেশকে সুযোগ দেবে ফিফা? এখানেই আলোচনায় চলে এসেছে বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে হেরে যাওয়া ইতালি।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’ দাবি করছে, ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে ৪৮তম দল নির্বাচনে নতুন করে প্লে-অফের আয়োজন করবে ফিফা। সেখানে অংশ নিতে পারে ৪টি দল। ইউরোপিয়ান অঞ্চল থেকে দুই দল ও এশিয়া থেকে দুই দল। তাদের নিয়েই হবে প্লে-অফের নতুন রাউন্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের দুই দলের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই জায়গা পেতে যাচ্ছে ইতালি! তার মানে সুযোগ আছে।
শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করবে কি না, ইতালির ফুটবল অঙ্গন এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে। ইরানের বয়কটেই নতুন করে খুলতে পারে আজ্জুরিদের ভাগ্য।



