খ্যাতির বিড়ম্বনা
শান্তি হারিয়ে পুরনো জীবনে ফিরতে চান ভোজিনহা

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে রাতারাতি ফুটবলের নতুন সেনসেশনে পরিণত হয়েছেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। বর্তমানে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোর হয়ে খেলা এই তারকা ফুটবলার বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তুলে এখন খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজার্ভার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শান্তি ও গোপনীয়তা কেড়ে নিয়েছে।
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছিলেন ভোজিনহা। সেই ম্যাচের পর তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় দশ লাখ। এই হঠাৎ খ্যাতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার শান্তি ও নিস্তব্ধতা হারিয়েছি। এখন আর আগের মতো গোপনীয়তা নেই বললেই চলে। রেস্তোরাঁয় গেলে কেউ ছবি তুলতে চায়, কেউ অটোগ্রাফ চায়। তার চেয়েও খারাপ বিষয় হলো—কেউ না জানিয়ে ভিডিও করতে শুরু করে। আমার জীবনে এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এবং আমি মনে করি না এ নিয়ে আমার করার কিছু আছে।’
অত্যন্ত লাজুক ও প্রচারবিমুখ স্বভাবের এই গোলরক্ষক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই অতিরিক্ত খ্যাতি তাকে সুখী করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিখ্যাত হতে চায়, কিন্তু তারা খ্যাতির কেবল ইতিবাচক দিকগুলোই দেখে। সত্যি বলতে, আজকের জীবন আর আগের জীবনের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে আমি আগের সেই শান্ত জীবনটিকেই বেছে নিতাম।’
বিশ্বকাপের পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও নিজের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভোজিনহা। তামাক, অ্যালকোহল কিংবা বেটিং বা জুয়া কোম্পানির কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন শুধুমাত্র 'ইউএফএল মোবাইল' ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেননি বলে জানান এই গোলরক্ষক।
ব্যক্তিগতভাবে খ্যাতির বিড়ম্বনায় থাকলেও দেশের জন্য এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ভোজিনহা। কেপ ভার্দের ফুটবলের অঘোষিত দূত হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অর্জন ছিল একটি যৌথ প্রচেষ্টা। আমরা ইতিহাস গড়েছি। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হবে যদি এই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।’
উল্লেখ্য, দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশাখ গোলরক্ষকদের ব্যালন ডি'অর (লেভ ইয়াসিন ট্রফি) মনোনয়নের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন ভোজিনহা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই কল্পনাও করিনি এমন কিছু হতে পারে। এটি আমার কাছে অকল্পনীয় ছিল। তবে যারা আমাকে এই মর্যাদার যোগ্য মনে করেছেন তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’





