লাল কার্ডে শুরু বিশ্বকাপ হারিয়ে শেষ

১৭ আগস্ট ২০০৫। বুদাপেস্টের ফেরেনস পুসকাস স্টেডিয়ামে স্বাগতিক হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের ৬৩ মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হয়ে মাঠে এলেন লিওনেল মেসি। ঝাঁকড়া চুলের তরুণের সেটাই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম মাঠে নামা। যার স্থায়িত্ব হলো মাত্র ৪৭ সেকেন্ড। মাঠে এসেই হাঙ্গেরির ভিলমোস ভানচাককে বল দখলের লড়াইয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে আঘাত করে বসেন। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি তাকে দেখিয়ে দেন সরাসরি লাল কার্ড।
এর ঠিক ২১ বছর পর আরেকটি আগস্টের সকালে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসি আবেগঘন বার্তায় বিদায় জানালেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে। দুই দশক ফুটবলবিশ্বকে বাঁ পায়ের জাদুতে বুঁদ করে রাখা মেসিকে আর দেখা যাবে না আকাশি-সাদা জার্সিতে। শুরুর সঙ্গে শেষটাও যেন মিলে গেছে এক সীমারেখায়। ১১ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে তাকে হারাতে হয় আরাধ্য শিরোপা। অশ্রুসজল মেসিকে বিশ্ব সেদিনই শেষবারের মতো দেখল আর্জেন্টিনার জার্সিতে।
ফাইনালে হেরেই মন স্থির করে রেখেছিলেন ইতি টানবেন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের। ২১ জুলাই বিদায়ি চিঠিও লিখে রেখেছিলেন। তবে মাঝে বাবার মৃত্যু কিছু সময়ের জন্য থমকে দেয় তাকে। অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠেও নিয়মিত হলেন। কয়েক ঘণ্টা আগে চার গোল করে দেখালেন জাদুকরী। এর পরই নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন— এখানেই শেষ।
অথচ শেষটা রাঙাতে পারতেন আরেকটি সোনালি শিরোপায়। বয়সটাকে স্রেফ সংখ্যায় পরিণত করে ২০২২ বিশ্বকাপের মতো এবারও জ্বলেছিলেন স্বমহিমায়। টানা দ্বিতীয়বার দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে যে ব্র্যান্ডের ফুটবলটা খেলা প্রয়োজন, সেটাই খেললেন। একের পর এক বাধা চূর্ণ হলো মেসির জাদুকরী পায়ের ছোঁয়ায়। দল পৌঁছাল ফাইনালে। আট গোল আর চার অ্যাসিস্টে মেসি দলকে দেখালেন আরেকটি শিরোপার স্বপ্ন। তবে সেরা মঞ্চে নিজের মতো করে বিস্ফোরিত হতে পারলেন না, আটকে গেলেন স্প্যানিশ কৌশলে। দলও তাতে পথহারা। ভুতুড়ে ফুটবলে মানতে হলো হার। লাল কার্ডে শুরুর মতো তাই বিদায়টাও হলো আক্ষেপ নিয়ে।
মেসিকে আর দেখা যাবে না আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দিতে। আকাশি-সাদায় দেখা মিলবে না সেই অবিস্মরণীয় জাদুকরী সব মুহূর্ত। ক্লাব ফুটবলটা চালিয়ে যাবেন ঠিক ততদিন, যতদিন সেটা নিজের কাছে উপভোগ্য মনে হবে।
একজন পাঁড় মেসি সমর্থক ক’দিন আগেই বলছিলেন— ‘বিশ্ব ফুটবলের উচিত মেসির সঙ্গে এমন একটা চুক্তি করা, যার একমাত্র শর্ত থাকবে আমৃত্যু তিনি বিনোদিত করে যাবেন ফুটবলশৈলীতে।’ সেরকম কোনো অবিশ্বাস্য চুক্তির আগেই স্বপ্নিল যুগের সমাপ্তি রেখা নিজেই টেনে দিলেন লিওনেল মেসি।
তার বিদায়ে ভেঙে গেছে কোটি ভক্তের হৃদয়। সেই দুঃখ বুকে চেপেই বলতে হচ্ছে— বিদায় মহারাজ।








