বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশচুম্বী দাম ও প্রতারণার অভিযোগে ফিফাকে আইনি নোটিস

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো এবং টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফুটবলপ্রেমীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে এবার আইনের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা যৌথভাবে ফিফার এই বিতর্কিত টিকিট প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ফিফাকে আদালতের মাধ্যমে ‘সাবপিনা’ (জরুরি তথ্য ও নথি প্রকাশের আইনি নির্দেশ) পাঠানো হয়েছে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট ফিফার এই টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াকে ‘বিভ্রান্তিকর, টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অসম্ভব চড়া মূল্যের ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, ফিফা পূর্ববর্তী যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন ধাপে টিকিটের দাম পরিবর্তন করার মাধ্যমে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে প্রায় ৯০টি ম্যাচের টিকিটের দাম গড়ে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের (ডিসিডব্লিউপি) কমিশনার স্যামুয়েল এ এ লেভিন বলেছেন, ‘ফিফার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক আচরণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। টিকিটের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ভক্তদের পকেট কাটার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।’
এ ছাড়া ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ, বসার আসন বা সিটের লোকেশন নিয়েও তাদের মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিট বিক্রি করে পরে একই আসনের সামনের সারিগুলোকে ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ নাম দিয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করেছে ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো অবশ্য শুরু থেকেই টিকিটের চড়া মূল্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছিলেন। তার দাবি ছিল, এই গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্টের প্রতি সাধারণ মানুষের ‘পাগলাটে’ চাহিদার কারণেই টিকিটের দাম এমন রাখা হয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৮৬টি ম্যাচের এবং গ্রুপ পর্বের প্রায় সব ম্যাচের মূল টিকিট এখনো অবিক্রিত অবস্থায় ফিফার ওয়েবসাইটে পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালসহ ৮টি ম্যাচের টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিতিয়া জেমস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজন করা আমাদের জন্য সম্মানের, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের নাগরিক ও পর্যটকদের ওপর শোষণ চালানো হবে। সাধারণ দর্শকদের সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
টিকিটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আয়োজকদের সাথেও ফিফার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যে, ফিফা যাতায়াত খরচে কোনো ভর্তুকি দিতে রাজি হয়নি। ম্যানহাটন থেকে স্টেডিয়ামের মাত্র ১৮ মাইলের সাধারণ ট্রেন ভাড়া যেখানে মাত্র ১২.৯০ ডলার, সেখানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের টিকিট প্রথমে ১৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা কমিয়ে ৯৮ ডলার করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা এখনো অনেক ব্যয়বহুল।
মাত্রাতিরিক্ত খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল ব্যবসায়ীরাও এবার বিশ্বকাপ ‘ফ্লপ’ হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। টিকিট জালিয়াতি ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফিফা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।









