বিদ্যুৎ বিপর্যয়
বিলবোর্ড ভেঙে পড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো একটি গ্রামকে

ছবি: আগামীর সময়
একটি বিশাল বিলবোর্ড ভেঙে পড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো একটি গ্রামকে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একটি বিশাল বিলবোর্ড ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ার পর টানা তিন দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে রামেরখোলা গ্রাম। একই সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এমন অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড এখন ওই অঞ্চলের জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন রামেরখোলা এলাকায় বিশালাকৃতির একটি বিলবোর্ড হঠাৎ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের ওপর। বিলবোর্ডের ভারী ওজনে ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার এবং একাধিক খুঁটি হেলে পড়ে। এই ঘটনার পর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রামেরখোলা গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে এই তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পরিবারগুলো এক দুর্বিষহ সময় পার করছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, 'দুই-তিন দিন ধরে আমরা বিদ্যুৎ ছাড়া অন্ধকারের মধ্যে আছি। এই গরমে টেকা যাচ্ছে না, বিশেষ করে বাচ্চাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।'
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যার অনেকগুলোই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বসানো এই বিলবোর্ডগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই বিলবোর্ডগুলোর কারণে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকিতে পড়েছে জননিরাপত্তা।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও খুঁটি মেরামতের কাজ জোরকদমে চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন তারা।
অন্যদিকে, ভেঙে পড়া বিলবোর্ডটির মালিক আল-আমীন জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পুরো বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূম্পা ঘোষ বললেন, 'ভেঙে পড়া বিলবোর্ডটি দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ডগুলো চিহ্নিত করে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই এক্সপ্রেসওয়ের চারপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ডগুলোর বিরুদ্ধে এখনই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।






