মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনি, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ফুটপাতের সেলুনে ঈদের ব্যস্ততা

ছবি: আগামীর সময়
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। চারদিকে ঈদের চিরচেনা ব্যস্ততা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের অভিজাত সেলুনগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে গ্রাহকদের দীর্ঘ সিরিয়াল। তবে ঈদের এই চনমনে হাওয়া কেবল নামী-দামী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেলুনেই সীমাবদ্ধ নেই; সমান তালে ব্যস্ততা বেড়েছে ফুটপাতের জরাজীর্ণ অস্থায়ী দোকানগুলোতেও।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় টানা তীব্র তাপদাহের পর হঠাৎ করেই আকাশ ভেঙে নামল মুষলধারে বৃষ্টি। চারদিকের মানুষ যখন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে, তখন শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও জনপদের জায়গায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। মাথার ওপর সামান্য একটা পলিথিনের ছাউনি, আর তারই নিচে বৃষ্টির ছাঁট বাঁচিয়ে অবিরাম চলছে কাঁচি আর ক্ষুরের খটখট শব্দ। প্রকৃতির বৈরিতা ভুলে এক চিলতে জীবিকার সংগ্রামে মগ্ন ৮২ বছরের বৃদ্ধ নবীর আলী গাজী।
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও সংসারের চাকা সচল রাখতে এই বয়সেও কাঁচি হাতে তুলে নিয়েছেন নবীর আলী। তবে তিনি একা নন, বাবার এই জীবনযুদ্ধে সমান তালে হাত লাগিয়েছেন তার দুই ছেলেও। বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম ও মেজ ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবার দুই পাশে বসে ক্লান্তিহীনভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকদের। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের এই অস্থায়ী দোকানে চুল-দাড়ি কেটেই চলে তাদের পুরো পরিবারের ভরণপোষণ।
বৃষ্টির মধ্যেও পলিথিনের নিচে ঠাঁই নিয়ে একের পর এক মানুষের চুল কাটছিলেন তারা। কেউ এসেছেন ঈদের আগে নিজেকে একটু পরিপাটি করে নিতে, আবার কেউ দূর গ্রাম থেকে এসে ঠাঁই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন নিজের সিরিয়ালটির জন্য।
কাজের ফাঁকেই স্মিত হেসে বৃদ্ধ নবীর আলী গাজী বললেন, 'অনেক বছর ধরে এই কাজ করছি। বয়স হয়েছে, চোখ-হাত আগের মতো চলে না, তারপরও সংসারের টানে কাজ করতে হয়। ঈদের এই সময়টায় একটু কাজের চাপ থাকে, আয়-রোজগারও সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বাড়ে।'
বাবার কথার সূত্র ধরে বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম জানালেন, 'ফুটপাতে দোকান হলেও মানুষ আমাদের ভালোবাসে, বিশ্বাস করে আমাদের কাছে আসে। ঈদের উছিলায় এখন কাজের চাপ অনেক বেশি।'
হাটে আসা স্থানীয় গ্রাহক হোসেন আলী, অনাথ মন্ডল ও উৎপল মন্ডল জানান, আধুনিক সেলুনগুলোর চড়া দাম এবং অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে নিম্নআয়ের মানুষের প্রধান ভরসা ফুটপাতের এই দোকানগুলোই। একদিকে স্বল্প খরচে পরিপাটি হওয়া, অন্যদিকে নবীর আলী গাজীর মতো শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা সচল রাখা—সব মিলিয়ে এই পলিথিনের ছাউনির নিচেই যেন মিলেছে এক পশলা স্বস্তি।






