শেষ সময়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কম দামে মিলছে কোরবানির গরু
- বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট ইজারাদাররা
- পশু নিয়ে অন্য হাটে ছুটছেন ব্যবসায়ীরা

ছবি: আগামীর সময়
রাত পোহালেই কোরবানি। কিন্তু এখনো রাজধানীর বেশির ভাগ হাটে অনেক পশু অবিক্রীত রয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় গাবতলী, দিয়াবাড়ি ও তেজগাঁও হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। আবার যেসব পশু বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দামও কম।
পশুর হাটের এমন চিত্রের জন্য ব্যবসায়ীরা বৃষ্টিকে দায়ী করছেন। গত তিন দিনের থেমে থেমে ভারি বৃষ্টির ফলে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন হাঁটুসমান কাদা। এতে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে। অথচ শেষ সময়ে পশু বিক্রির হার বাড়বে বলে আশা করছিলেন তারা। আবার বৃষ্টির কারণে গরু-ছাগল ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে কেউ কেউ কম দামেই দ্রুত পশু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
তেজগাঁও হাটে গরু নিয়ে আসা কামরুল হাসান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, হাটে অতিরিক্ত পশু ওঠায় এবার অবিক্রীত পশুর সংখ্যা অনেক। প্রতিটি গরুতে ৩০ হাজার টাকা করে আটটি গরুতে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করেছেন তিনি। আরেক ব্যবসায়ী কুষ্টিয়া থেকে ১৫টি গরু এনে মাত্র সাতটি বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি আটটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, লোকসানে বিক্রির চেয়ে খামারে ফেরত নিয়ে যাওয়াই সমীচীন মনে করছেন।
তেজগাঁও হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম মোট পশুর ৬০ শতাংশ বিক্রির তথ্য জানিয়ে আগামীর সময়কে বললেন, দুপুরের পর থেকেই তিনি ব্যবসায়ীদের পশু নিয়ে ফেরত যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। সন্ধ্যার আগে কেউ কেউ পশু নিয়ে অন্য হাটে চলে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাটে পশু বিক্রির হার কম কি না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম জানালেন, এবার বিক্রি তেমন খারাপ হয়নি। শুরুতে ব্যবসায়ীরা ভালো লাভও করেছেন। তবে কিছু ব্যবসায়ী হাটের প্রথম দিকে বেশি লাভের আশায় পশু বিক্রি করেননি। এখন তারাই পশু নিয়ে ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুরুর দিকে দিয়াবাড়ির হাটেও এবার পশু বিক্রি ভালো হয়েছে। তবে এখন হাটটিতে পানির দামে পশু বিক্রি হচ্ছে। ইজারার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, পশুর হাটের প্রথম তিন দিন বিক্রেতারা বেশ ভালো লাভ করেছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ থাকায় শেষ সময়ে দাম পড়তে শুরু করে। বৃষ্টি, কাদা ও পানিতে ক্রেতার পাশাপাশি পশুও কাহিল হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কম দামে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সন্ধ্যার পর হাটে আসা ক্রেতারা পশুর দাম কমায় সন্তুষ্ট। দরদাম করে আগের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কমে মাঝারি আকারের গরু কিনতে দেখা গেছে কিছু ক্রেতাকে। রামপুরার মাসুম খান নামের এক ক্রেতা আগামীর সময়কে জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রতি লাখে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা কমে গরু বিক্রি হচ্ছে।
শেষ সময়ে পশুর দাম কমলেও ঈদের দিনেও কিছু পশু বিক্রি হতে পারে। এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মোট ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ১১টি এবং উত্তর সিটিতে ১২টি হাট রয়েছে।






