আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ
অভিভাবকহীন তিন শিশুর ঈদ আনন্দে পীরগঞ্জের ইউএনও

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে ঘরে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রেলস্টেশন এলাকার তিনটি শিশুর চোখে তখন ছিল কেবলই শূন্যতা। বাবা নিখোঁজ, মা অন্যত্র সংসার পেতেছেন; পারিবারিক ভাঙনের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় তিন ভাইবোন আশ্রয় পেয়েছিল ফুফুর কাছে। কিন্তু অভাবের সংসারে যেখানে দুবেলা অন্ন জোগানোই দায়, সেখানে ঈদের নতুন পোশাক কিংবা ভালো খাবারের আশা ছিল এক দূর আকাশেরই কল্পনা।
অসহায় এই শিশুদের মানবেতর জীবনের গল্পটি সম্প্রতি উঠে আসে ‘দৈনিক আগামীর সময়’ পত্রিকার একটি মানবিক প্রতিবেদনে। আর সেই সংবাদ প্রকাশের পর পরই টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের, দ্রুত সাড়াও মেলে।
খবরটি নজরে আসতেই শিশুদের পাশে দাঁড়াতে ছুটে যান পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী সরদার। সোমবার রাতে তিনি নিজে ওই শিশুদের বাড়িতে হাজির হন। ঈদ সামনে রেখে ঝুপড়ি ঘরে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে দেখে বিষণ্ন মলিন মুখে ফুটে ওঠে হাসির ঝিলিক। ইউএনও শিশুদের হাতে তুলে দেন ঈদের নতুন পোশাক, খাদ্যসামগ্রী এবং নগদ আর্থিক সহায়তা। সেই সঙ্গে তিনি শিশুদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শিশুদের ফুফু রাশেদা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, 'আমি একা তিনটা বাচ্চাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে চলছিলাম। ঈদের সময় ওদের জন্য কিছুই করতে পারছিলাম না। প্রশাসন এসে এভাবে পাশে দাঁড়ানোয় আমাদের অনেক বড় উপকার হলো।'
ইউএনও মো. গোলাম রব্বানী সরদার জানালেন, 'সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই। শিশুদের বাস্তব অবস্থা জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে এই সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। ভবিষ্যতেও আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।'
এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি জানান, সংবাদমাধ্যম সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেই প্রশাসনের পক্ষে এমন মানবিক বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া সহজ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমুল ইসলাম প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তাতে শিশুগুলো অন্তত ঈদের সময় কিছুটা আনন্দ খুঁজে পাবে।
এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং এই অবহেলিত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






