ঈদের আগে চট্টগ্রামে কোরবানির পশু নিয়ে আনন্দর্যালি

চট্টগ্রামে কোরবানির পশু নিয়ে আনন্দর্যালি। ছবি: আগামীর সময়
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দেশের মুসলিম সম্প্রদায় মেতে উঠবে ত্যাগের উৎসবে। তবে কোরবানির আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর দৃশ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগের দিন নিজের পছন্দের কোরবানির পশু নিয়ে নগরীর রাজপথে নেমেছে শত শত তরুণ ও পশুপ্রেমী। বাদ্য বাজিয়ে নেচে গেয়ে পশুর এক অনন্য প্রদর্শনী হয়ে গেল সড়কে।
আজ বুধবার বিকেলে নগরের সড়কজুড়ে পশু ও মানুষের মিছিলের এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বের হওয়া আনন্দ শোভাযাত্রার ঠিকানা ছিল পাহাড়ঘেরা সিআরবি। সেখানে নিজ নিজ কোরবানি পশুর প্রদর্শনী হয়। পশুদের নানা কসরত দেখা যায়। এই ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক সচেতনতা, পশুর প্রতি গভীর মমতা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য নজির বলছেন র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা।
নগরীর কাজীর দেউড়ি, বেটারি গলি, এনায়েত বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার যুবকেরা তাদের কোরবানির গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আলাদা র্যালি বের করে। এই র্যালির জন্য বিশেষ জার্সি বানিয়েছে তরুণরা। জার্সির গায়ে লেখা ছিল ‘গরু পাগলা’, ‘গরু আইয়ের’সহ হরেক রকমের মজার ও আঞ্চলিক নাম।
র্যালিতে আসা তৌহিদ হোসেন অপু জানান, ‘কাল পবিত্র দিন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় পশুকে কোরবানি দিয়ে দেব। তাই শেষবারের মতো প্রিয় পশুকে পরম যত্নে সাজিয়ে এনেছি এবং নিজেরা স্মৃতি ধরে রাখতেই সবাই একত্রিত হয়ে এই র্যালিটি বের করেছি।’
এছাড়া র্যালিতে যোগ দিতে আসা নারী, শিশু, কিশোর ও যুবকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার হাতে ছিল বাঁশি, ভুভুজিলা, ঢোল এবং বিভিন্ন রঙের আতশবাজি। ঢাক-ঢোলের তালে ও বাদ্যের সুরে প্রিয় পশুকে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিআরবিতে আসেন তারা। র্যালিতে বড়, মাঝারি ও ছোট গরুর পাশাপাশি ছিল মহিষও। যার যার পশু নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আগতরা।
সাহদে হোসেন হিরা বলছিলেন, ‘আমরা চাই এই র্যালির মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হোক, যেন সম্প্রীতির রেশ আমাদের মাঝে বজায় থাকে সারা বছর।’
এছাড়া এম এম রুবেল নামের একজন জানান, ‘আমরা এই র্যালির আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি সমাজে যৌতুকবিরোধী বার্তা দিতে চাই। কোরবানিকে কেন্দ্র করে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রথা হিসেবে গরু-ছাগল নেওয়ার যে রেওয়াজ চালু আছে, আমরা তা ভাঙতে চাই।’
ঈদুল আজহার মূল বাণীই হলো ত্যাগের মহিমা। হাট থেকে কেনার পর কয়েকদিনে কোরবানি পশুর সঙ্গে কোরবানি দাতার এক ধরনের বন্ধন তৈরি হয়। তাকে গোসল করানো, পরম মমতায় সাজানো ও খাওয়ানোর মাধ্যমে পশুর প্রতি মানুষের সৃষ্টি হয় ভালোবাসা। আর এই ত্যাগের পূর্ণতা পায় নিজের প্রিয় ও মায়ায় জড়ানো বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার মাধ্যমে।








