ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ যাচ্ছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এলবিনো মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোরবানির জন্য কেনার পর বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে মহিষটিকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সেটিকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।
মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের কারণে আলোচনায় আসা মহিষটি দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমেও মহিষটির ভিডিও প্রচার করা হয়।
গত ২১ মে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে এলবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি হতে যাচ্ছে’। চার বছরের মহিষটির ওজন প্রায় ৬৮০ কেজি।
এলবিনো জাতের এই মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতো হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মহিষটি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছিল। জিয়াউদ্দিন গণমাধ্যমে জানান, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নাম অনুসারে এ নাম রেখেছিলেন তার ভাই।
মে মাসজুড়ে মহিষটিকে দেখতে দলে দলে মানুষ ভিড় করেন খামারটিতে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিকভাবেও এটি চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
পরে জিয়াউদ্দিন মহিষটি বিক্রি করেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের কাছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সোমবার বিকেলে মহিষটিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় খামারে লালগালিচা বিছিয়ে রাজকীয় আয়োজনে মহিষটিকে জানানো হয় বিদায়।
বুধবার বিকেল চারটার দিকে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে যান কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’ পরে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দেন মনিরুজ্জামান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক মুঠোফোনে গণমাধ্যমে জানান, মহিষটি নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। এছাড়া এটি একটি বিরল জাতের হওয়ায় সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
তার দাবি, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’
মহিষটিকে গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত
করেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর চিকিৎসক মো. আতিকুর রহমান। মূল ফটকে জীবাণুনাশক ছিটানোর
পাশাপাশি বড় শেডে রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহ মহিষটিকে কোয়ারেন্টিনে
রাখা হবে এবং কোনো রোগ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
‘ইন ব্রিডিং হলে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শরীরে রঞ্জক পদার্থ মেলানিন কম থাকলে মহিষ কালো না হয়ে সাদা হয়। প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একটি এমন হতে পারে।’
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া। ‘অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি অত্যন্ত বিরল। সংরক্ষণের স্বার্থে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে মহিষটি কিনে নেওয়া হয়েছে। পরে মিরপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে সেটিকে।’
মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানের চাচা-শ্বশুর মো. তাইবুর রহমান আগামীর সময়কে জানান, মূলত ঈদুল আজহার কোরবানির জন্য কেনা হয়েছিল মহিষটি। তবে পরে জানা যায়, এটি এলবিনো জাতের অত্যন্ত বিরল একটি মহিষ। বিষয়টি
গুরুত্ব দিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায়, সরকারের কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে মহিষটি।









