বলছেন স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে
ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ভালো মানুষও খুঁজি

সংগৃহীত ছবি
মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সমালোচিত এক কোচ থেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর দায়িত্ব পালনের পর জাতীয় দলের হাল ধরেন তিনি। তার অধীনেই স্পেন জিতেছে নেশনস লিগ, ইউরো এবং সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ জয়ের কয়েক দিন পর স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দলের ওপর তার পূর্ণ আস্থা ছিল বলে জানিয়েছেন এই ৬৫ বছর বয়সী কোচ।
পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করা নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এটি শুধু ডিফেন্ডারদের কৃতিত্ব নয় পুরো দলের। আমাদের রক্ষণভাগ অত্যন্ত সুসংগঠিত। ১১ জন মিলে রক্ষণ সামলায়। একই সঙ্গে আমরা আক্রমণেও ধারাবাহিক। গত ৫০ ম্যাচে শতাধিক গোল করেছি আর গোল হজম করেছি খুবই কম।‘
একইসঙ্গে দলের খেলোয়াড় বাছাইয়ের নীতিও তুলে ধরেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘আমি সবসময় ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ভালো মানুষও খুঁজি। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকতে হয়। তাই চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিভা, লড়াকু মানসিকতা ও ভালো মানুষ হওয়া—এই তিনটি একসঙ্গেই সম্ভব।‘
বয়সভিত্তিক দল থেকেই অনেক ফুটবলারকে গড়ে তুলেছেন দে লা ফুয়েন্তে। তরুণদের নিয়ে কাজ করতে বেশ স্বাছ্যন্দবোধ করেন তিনি, ‘অনেককে ১৬-১৭ বছর বয়স থেকে চিনি। তাদের পরিবারকেও চিনি। এই সম্পর্ক দল পরিচালনায় আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।‘
বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়সূচক গোল করা ফেরান তোরেসকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাকে নিয়েও কথা বলেছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘ওকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাই ফাইনালে ওর গোল আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। পরিসংখ্যানই বলে দেয় জাতীয় দলে সে কতটা কার্যকর।‘
লামিন ইয়ামাল ও পাও কুবারসির মতো তরুণদের প্রশংসা করেন স্পেন কোচ । তিনি জানান এ বয়সে যারা বিশ্বমানের ফুটবলার হয়, তারা বিশেষ প্রতিভা। তাদের পরিপক্বতা ও ফুটবলবোধ অসাধারণ। তার কাছে দুজনই প্রতিভাবান জিনিয়াস।
২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা টেনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘মূল দর্শন একই, তবে সময়ের সঙ্গে ফুটবল বদলেছে। আমরা বল দখলভিত্তিক ফুটবল খেলি কিন্তু এখন গতি ও ট্রানজিশনের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।‘




