বার্সেলোনাকে হারিয়েই কি আতলেতিকো সমর্থকদের মন জয় করবেন আলভারেস?

সংগৃহীত ছবি
হুলিয়ান আলভারেস ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি জানেন শুধু ক্ষমা চাইলেই সমর্থকদের মন জয় করা যাবে না। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তা অর্জন করতে হবে। আর সেটির জন্য সোমবারের চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে! বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মেত্রোপলিতানোয় বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই মুহূর্তে স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি। দুই দলের সামনে লিগের শীর্ষস্থান দখলের হাতছানি।
তবে আলভারেসের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ একসময় বার্সেলোনার হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ডালাসে বিশ্বকাপের এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ‘স্পাইডার’ নামে পরিচিত এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এখন যে দলটিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, তাদেরই হারিয়ে নিজের সমর্থকদের মন জয়ের সুযোগ আলভারেসের সামনে।
এর আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে সাফল্য পেয়েছেন আলভারেস। গত মৌসুমে কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বার্সাকে বিদায় করেছিল আতলেতিকো। দুই ম্যাচেই গোল করেছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সরাসরি বার্সেলোনার নাম উল্লেখ করেননি তিনি। তবে তার ইঙ্গিত বুঝতে কারও বাকি ছিল না। আলভারেস বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক সময় এখন নয়। তবে নিজের অনুভূতি লুকাতেও পারছি না। যাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার জন্যই আমার ক্লাব ছাড়াটা ভালো হবে।’
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। আলভারেসকে ছাড়তে রাজি হয়নি আতলেতিকো। অন্যদিকে শুরুতে তাকে দলে পেতে বেশ আগ্রহী থাকলেও এখন বার্সেলোনাও হয়তো আগের মতো মরিয়া নয়।
নতুন মৌসুমের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাদ্রিদে ছিলেন আলভারেজ। তবে নিজের সমর্থকদের কাছ থেকেই শুনতে হয়েছে দুয়োধ্বনি। সতীর্থরা যখন সমর্থকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন তখন তাকে একা টানেলের দিকে চলে যেতে বলা হয়। গ্যালারি থেকে স্লোগান উঠেছিল, ‘ওকে চলে যেতে বলো।’ আলভারেসের মনে হয়তো তখন একটাই কথা ছিল— ‘আমি তো চেষ্টাই করছি।’
আলভারেসের মধ্যে একধরনের দূরত্ব ও হতাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। পরের দুই দিন অনুশীলনে না আসা তারই লক্ষণ ছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই লাভ হয়নি। দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আতলেতিকোতেই থেকে যান তিনি।
সমর্থকদের দুয়োধ্বনিও থামেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলভারেসকে তাই নতুন করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে হয়েছে। প্রথমেই এজেন্ট ফার্নান্দো ইদালগোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। আলভারেসকে ভুল পথে পরিচালিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন আতলেতিকোর প্রধান নির্বাহী। পাল্টা জবাবে ক্লাবকে মিথ্যাবাদী বলেছিলেন ইদালগো।
এরপর মাঠে কিছুটা বেশি সময় পেতে শুরু করেন আলভারেস। পারফরম্যান্সেও ধীরে ধীরে উন্নতি আসে। ২০ অক্টোবর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্টুটগার্টের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। চারদিন পর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ গোলের জয়ে আবারও গোল পান এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচের পর সমর্থকদের উদ্দেশে ক্ষমাও চান তিনি, ‘বিশ্বকাপে আমার বলা কথাগুলোর জন্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই।’
তবে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা পুরোপুরি বদলে গেছে এমনটা বলেননি তিনি। বরং নিজের বক্তব্য দেওয়ার ধরন ও সময় নিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন, ‘সমর্থকদের রাগ আমি বুঝতে পারছি। আমি নিজেও সমর্থক হলে হয়তো একইভাবে রাগ করতাম। বিশেষ করে তারা আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে।’
আলভারেসের ক্ষমা চাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন কোচ দিয়েগো সিমিওনে, ‘যারা ক্ষমা চান, তাদের আমি সম্মান করি। কারণ ক্ষমা চাওয়াটা সহজ নয়। আমার বিশ্বাস, এখন হুলিয়ান অনেক বেশি স্বস্তিতে আছে।’
তবে সমর্থকদের অনেকেরই মনে হয়েছে, ক্ষমা চাইতে আলভারেসের আরও আগেই এগিয়ে আসা উচিত ছিল। বিশ্বকাপে সেই বক্তব্য দেওয়ার পর অনেকদিন পেরিয়ে গেছে। ক্লাবে থেকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও কেটে গেছে ছয় সপ্তাহ। শেষ পর্যন্ত গোল করার পরই ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। সমর্থকরা গোল উদ্যাপন করলেও তাতে যে পুরোপুরি আগের সম্পর্ক ফিরে এসেছে তা নয়।
এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাননি আলভারেস। তবে ধীরে ধীরে উন্নতি করছেন। মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচের মাত্র একটিতে শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন, গোলও পাননি। পরের আট ম্যাচের পাঁচটিতে শুরু থেকে খেলেছেন, গোল করেছেন দুটি।
লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে বার্সেলোনার ঠিক পেছনে রয়েছে আতলেতিকো। আলভারেসের সেরা ছন্দ ছাড়াই এই অবস্থানে পৌঁছেছে তারা। তবে ধীরে ধীরে নিজের পুরনো রূপে ফিরছেন স্পাইডার। মাদ্রিদই যে এখন তার ঠিকানা, সেটি মেনে নিয়ে সমর্থকদের আস্থা ফেরানোর মিশন শুরু করেছেন তিনি।
আলভারেসের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়াটা আতলেতিকোর জন্য খারাপ কিছু নয়। বরং দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এখন বাড়তি শক্তি হয়ে উঠতে পারেন এই ফরোয়ার্ড। আর সেটি যদি বার্সেলোনার বিপক্ষে সোমবারই হয় তাহলে তো কথাই নেই! এই ম্যাচে জিতলে লিগের শীর্ষস্থান দখল করতে পারে আতলেতিকো। একই সঙ্গে হতে পারে আলভারেসের জন্যও নতুন শুরু— সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানো, নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত এবং দলকে শীর্ষে তোলার সুযোগ।



