লা লিগা
‘চুল টেনে’ লাল কার্ড ভিনির, সংবাদ সম্মেলন বয়কট মরিনহোর

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রোমাঞ্চ, বিতর্ক এবং চরম নাটকীয়তায় ভরা রাতে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে কষ্টের এই জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভিয়ারিয়ালের নাতান সালিবার চুল টেনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সরাসরি লাল কার্ড দেখা এবং ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ কোচ হোসে মরিনহোর সংবাদ সম্মেলন বয়কট করার ঘটনা।
লা লিগায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রিয়ালের কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। এর আগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। অন্যদিকে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ধাওয়া করলেও মরিনহোর দলের মলিন পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি।
লা লিগার অষ্টম রাউন্ডের এই ম্যাচে শুরু থেকেই গোলের সুযোগ তৈরিতে সংগ্রাম করছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। ম্যাচের ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আরনল্ডের বদলে আসা ১৯ বছর বয়সী ডাচ তরুণ ইয়ান দিওমান্দে চমৎকার এক নিচু শটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ১২ কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে আরবি লাইপজিগ থেকে আসা দিওমান্দেসের এটিই রিয়ালের জার্সিতে প্রথম গোল। শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা শুরু হয় ৭২ মিনিটে। দিওমান্দেসের গোলের পর রিয়ালের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আনন্দে সাইডলাইনে এসে উদযাপনে মেতে ওঠেন কোচ হোসে মরিনহোও। কিন্তু ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর পর গোল করার ঠিক আগে ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার নাতান সালিবার চুল ধরে জোরে টান দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস।
আইএফএবি-এর ১২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চুল টানা সহিংস আচরণ হিসেবে গণ্য হয়, যার শাস্তি সরাসরি লাল কার্ড। ভিএআর মনিটরে দৃশ্যটি দেখার পর রেফারি ভিনিসিয়ুসের গোলটি বাতিল করেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের ৭ নম্বর তারকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আরনল্ডের বদলি হিসেবে নামার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ হয় রিয়াল মাদ্রিদ। পুরো ম্যাচজুড়েই রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মরিনহো। শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়ালের ফুটবলাররা রেফারির ওপর চড়াও হন। শুধু তাই নয়, ম্যাচ শেষে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও উপস্থিত হননি মরিনহো। রিয়াল সূত্রে জানা যায়, ক্ষোভের মুখে এমন কিছু বলে ফেলতে পারেন যা শাস্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি সংবাদ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।
স্পেনভিত্তিক বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের পরও খেলোয়াড়দের গণমাধ্যমের সামনে পাঠাতে খুব একটা পছন্দ করে না। তবে আজ মরিনহোর সংবাদ সম্মেলনে না আসা একেবারেই ব্যতিক্রমী ঘটনা। ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ ছিলেন তা মাঠের আচরণেই স্পষ্ট। বিতর্ক একপাশে রাখলে, আজকের পারফরম্যান্সে মরিনহোর দল মোটেও বার্সেলোনাকে ভয় দেখানোর মতো কিছু করতে পারেনি। এই স্কোয়াড দিয়ে শিরোপা রেসে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন।’
এই জয়ের পর ৮ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৮ পয়েন্ট, যা টেবিলের শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা (২৪ পয়েন্ট) থেকে ৬ পয়েন্ট পেছনে। আগামী ২৫ অক্টোবর ন্যু ক্যাম্পে হাইভোল্টেজ এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।






