জিদানকে 'ঈশ্বরের সমতুল্য' বললেন অঁরি

সংগৃহীত ছবি
কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরের বাইরে তুরস্ক ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথম দুটি ম্যাচেই ফ্রান্সের হয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। জিনেদিন জিদানের কোচিংয়ে মুগ্ধ সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি বলছেন, ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে জিদান ঈশ্বরের সমতুল্য!
তুরস্ক ও বেলজিয়াম দুই দলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যাত্রাটা শুরু করেছেন জিদান। জিদানকে কোচ হিসেবে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জিদানের সাবেক সতীর্থ অঁরিও, ‘ফ্রান্সে জিজুর আগমন অসাধারণ। ফুটবলের ক্ষেত্রে তিনি এমন একজন মানুষ, যাকে ঈশ্বরের সমকক্ষ বলা চলে। আমি কোনো ধর্মবিশ্বাসীকে আঘাত করার জন্য এটা বলছি না, তবে আমাদের ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ঈশ্বরেরই সমতুল্য।‘
ফ্রেঞ্চ ফুটবলের নতুন প্রজন্মের ওপর জিদানের প্রভাব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন অঁরি, ‘ফ্রান্স জাতীয় দলে তাকে পাওয়া এবং তিনি এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন তা দেখা সত্যিই বিশেষ কিছু। আমরা এরই মধ্যে দেখেছি যে, তরুণ খেলোয়াড়েরা তাকে নিয়ে কথা বলছে এবং নিজেদের ভাব প্রকাশ করছে। তার উপস্থিতিতে তাদের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখেছি। আর এটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক, কারণ শেষ পর্যন্ত তিনিই তো জিজু!’
তবে সাবেক ম্যানেজার দিদিয়ে দেশমের ওপর একসময় যে লাগাতার জনপ্রত্যাশার চাপ ছিল, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অঁরি জোর দিয়ে বলেন, সাফল্য ধরে রাখাটাই আসল, ‘কিন্তু দিনশেষে আমাদের ফলাফলের প্রয়োজন; তিনি ইতিমধ্যেই কিছু সাফল্য দেখিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখতে হবে। তাই দেশমের ক্ষেত্রে যা বলেছিলাম, তার জন্যও শুভকামনা রইল!’
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতারাজ্জিকে মাঠ দিয়ে গুঁতো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন জিনেদিন জিদান। ঘটনার ২০ বছর পর আবারও সেই আজ্জুরিদের মুখোমুখি জিজু। কোচ হিসেবে ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে জিদান বলছেন, ওই গুঁতোর জন্য এখনো অনুতপ্ত নন তিনি।
বার্লিনের সেই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মাতারাজ্জি কিছু একটা বলেছিলেন জিদানকে। ফ্রেঞ্চ অধিনায়কের সেটা সহ্য হয়নি। গুঁতো দেওয়ার অপরাধে শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জিদান। বিশ্বকাপ ট্রফি এক পাশে রেখে নিচু মাথায় জিদানের মাঠ ছাড়ার সেই দৃশ্য বিশ্বকাপ ইতিহাসেই অন্যতম আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি।
সেই ঘটনা প্রসঙ্গে জিদান বলেছেন, ‘ছবিগুলো আমাকে সব সময় সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, সেগুলো বারবার দেখানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত আমার ক্যারিয়ারে শুধু এটাই ঘটেনি, কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিও রয়েছে।’
জিদান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মাথা দিয়ে ঢুস মারার সেই ঘটনায় তার কোনো অনুশোচনা নেই। ‘এগুলো অনুশোচনা নয়, আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা ঘটেছে, সে জন্য আমি গর্বিত নই; তবে আপনি সব সময় শুধু ভালো কাজ করতে পারবেন না। আমাদের সবার জীবনযাত্রায় এমন সময় আসে, যখন আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যা সেরা কাজ নয়। এখন সামনের দিনগুলোয় কী আছে, সেটাই আসল কথা।’
জিদান আরও জানান, ‘তখন আমি জানতাম না যে একদিন কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটাই ছিল শেষ এবং আমি বলতে পারি সময়টা খুব খুব কঠিন ছিল। আমি ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে ফেরার জন্য প্রস্তুত, আমার যা কিছু আছে তার সবই উজাড় করে দিতে চাই।’
জিদান জানিয়েছেন, সেই ঘটনার পর মাতারাজ্জির সঙ্গে আর কখনোই কথা বলেননি।



